


ইসলামাবাদ: কয়েক মাস আগেও সীমান্ত নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছিল দুই প্রতিবেশী দেশ ইরান এবং পাকিস্তান। আর এখন তেহরানে ইজরায়েলের হামলার পরেই মুসলিম সংহতির বার্তা দিয়ে প্রতিবেশী দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে ইসলামাবাদ। এরপরেই ইরানের শীর্ষ সেনাকর্তা আইআরজিসি কমান্ডার জেনারেল মোহসিন রিজাই দাবি করেছিলেন, তেহরান আক্রান্ত হলে ইজরায়েলে পরমাণু হামলা চালাবে ইসলামবাদ। সোমবার এই দাবি উড়িয়ে দিল পাকিস্তান। এদিন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ বলেন, ইসলামাবাদ কখনও এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তিনি বলেন, ইজরায়েলের অঘোষিত পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। চলতি পরিস্থিতিতে সেগুলির ব্যবহার হতে পারে। ফলে সংঘর্ষের ব্যাপকতা আরও বাড়বে।
সোমবার এক্স হ্যান্ডলে ইরানের সমর্থনে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আসিফ লেখেন, ‘ইজরায়েল সার্বিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে (এনপিটি) স্বাক্ষর করেনি। চলতি পরিস্থিতিতে বিশ্বের এই নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া প্রয়োজন। সমস্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান। দেশের কল্যাণ এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্যই আমাদের পরমাণু কর্মসূচি।’ তিনি আরও বলেন, ইরানকে আক্রমণ করেছে ইজরায়েল। পশ্চিমী দুনিয়ার এই নিয়ে আরও সদর্থক ভূমিকা পালন করা উচিত। নয়তো আরও বিপর্যয়ের জন্য তৈরি থাকতে হবে।
এই অবস্থায় এনপিটি থেকে সরে আসার তোড়জোড় শুরু করে দিল ইরান। সোমবার সেদেশের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এনপিটি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। খুব শীঘ্র এই নিয়ে পার্লামেন্টে বিল আনা হবে। তবে ইরান এখনও গণ বিধ্বংসী অস্ত্রের বিরুদ্ধে। সমর বিশারদদের মতে, এতদিন যে কাজটা রেখে ঢেকে করছিল তেহরান, এবার সেটাতেই সিলমোহর দিতে চাইছে তারা।
পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ইজরায়েল এবং ইরানের ভূমিকা সব সময়ই ধোঁয়াশার। তাদের হাতে কোনও পরমাণু অস্ত্র আছে বলে স্বীকারই করে না ইজরায়েল। বিশেষজ্ঞদের মতে, নীরবে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়েছে ইজরায়েল। তাদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারও বিশাল। তারা এনপিটি-তে স্বাক্ষরও করেনি। অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা চিকিৎসা গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য তাদের পরমাণু কর্মসূচি। এনপিটি-তে স্বাক্ষর করেছে তারা। পরমাণু অস্ত্র তারা চায় না বলেই বারবার দাবি করেছে তেহরান।