


বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর; কোনও স্টেশনে ঘন্টাখানেক ‘ডিউটি’ দিলে ৩০টি মোবাইল চুরি কোনও বিষয়ই নয়। হয়তো একেই বলে পকেটমারের পেশাদারিত্ব! তবে এখানেই সেই পেশাদারিত্বের শেষ নয়! উৎসবের মরশুমে শহরতলির বিভিন্ন লোকাল ট্রেনে হাতসাফাই, পকেটমারির অভিযোগে ধৃতদের জেরা করে রেল পুলিশ আরও জেনেছে, হাতসাফাইয়ে সারা দিনে যা আয় হয়, তার ২০ শতাংশ তারা আইনজীবীর ফিজ ও ১০ শতাংশ ‘সোর্স’ রক্ষা করতে খরচ করছে। সেই সঙ্গে সামনে এসেছে এই পকেটমারদের অভিনব একাধিক কৌশল। যেমন, এই পকেটমাররা এখন লাস্যময়ী তরুণী বা গৃহবধূর ছদ্মবেশে ট্রেনে উঠছেন। অনেক সময় তাঁদের পরণে থাকছে জিনস ও টপ। চোখে দামি সানগ্লাস। ভিড়ের মধ্যে কোনও যাত্রী তাদের প্রতি সামান্য ‘দুর্বলতা’ দেখালেই নিমেষে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে মোবাইল বা মানিব্যাগ। রেল পুলিশ সূত্রে খবর, কমবয়সি তন্বী, সুরূপা গৃহবধূ, মাতৃসমা বয়স্কাদের পৃথক পৃথক চোরের টিম শারদোৎসবকে টার্গেট করেছে। ভিড়ে মিশে থাকছে হ্যান্ডসাম পুরুষ চোরও। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের সচেতন করতে শহরতলির বিভিন্ন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাগী পকেটমার, চোরদের ছবি ঝোলানো হচ্ছে।
সারা বছরই শহরতলির লোকাল ট্রেনে ভিড় থাকে। পুজোর সময় সেই ভিড় আরও বাড়ে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নেয় পকেটেমাররা। মোবাইল ও মানিব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটে অহরহ। তদন্তকারীরা জেনেছেন, এবার পুজোয় ক্যানিং, বাসন্তী, ঘুটিয়ারি শরিফ, গরফা, ব্যাণ্ডেল ছাড়াও মুর্শিদাবাদ, মালদহ, রানাঘাটের পকেটমাররা শিয়ালদহ মেইন লাইনকে টার্গেট করেছে। মহিলা চোরদের পৃথক গ্যাং নেমেছে। চলতি সপ্তাহে দমদম জিআরপি দূরপাল্লার ট্রেনে মোবাইল, ল্যাপটপ সহ নানা সামগ্রী চুরির অভিযোগে সঞ্জয় ব্যাপারী নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করেও নানা তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ধৃত ১০ বছরের বেশি সময় দূরপাল্লার ট্রেনে চুরি করছে। আগে ১২ বার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। এটাই তার পেশা। রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একইভাবে রহড়ার রেহেনা বিবি নামে এক গৃহবধূক ট্রেনে চুরি করাই পেশা। এখন সে তিনতলা বাড়ির মালিক। গত জুলাই মাসে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাকে। এখন জামিনে মুক্ত। বরানগরের ২২ বছর বয়সি সুন্দরী তরুণী দীপালি, গরফার বছর বাইশের গৃহবধূ গুড়িয়া সহ বহু ‘সুন্দরী চোর’ জামিনে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। মালদহ ইংলিশবাজারের ছোটন ঘোষ, পানিহাটির মনোজ সর্দার মোবাইল ও মানিব্যাগ চুরিতে অতি দক্ষ। এই অবস্থায় প্রতিটি স্টেশনে সিসি ক্যামেরায় নজরদারি, স্টেশন এলাকায় রেল পুলিশের আধিকারিকদের সারপ্রাইজ ভিজিট, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ঢোকা-বেরনোর পথে কড়া নজর রাখা হয়েছে। দাগী অপরাধীদের ছবি প্ল্যাটফর্মে ঝোলানোর পাশাপাশি কুখ্যাত পকেটমারদের ডেরায় অভিযানও চালানো হচ্ছে।