


ঢাকা: মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। কিছুদিন আগে এমনই অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এমনকি তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার চেষ্টাও হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। এ নিয়ে ব্যাপক হইচই শুরু হয়েছে পদ্মাপারে। তার মধ্যেই এবার সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের পালটা অভিযোগ আনলেন জামাত প্রধান তথা বাংলাদেশের বিরোধী নেতা শফিকুর রহমান। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কী কী ঘটেছিল, তার অনেক কিছুই গোপন করে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। ওই দিন আন্দোলনের চাপে দেশ ছেড়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শফিকুরের অভিযোগ, হাসিনার পদত্যাগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সেদিন নেতাদের এবং পরে গোটা জাতিকে যা যা জানিয়েছিলেন, সেসব এখন তিনি স্বীকার করছেন না। এখন তিনি যা বলছেন, সেদিন এর কিছুই তিনি বলেননি। জামাত প্রধান লিখেছেন, ‘কোটি-কোটি মানুষ যা শুনল এবং সেদিন তিনি যা বললেন আর এখন যা বলছেন তার হিসাব রাষ্ট্রপতি মিলিয়ে দেবেন কি? জাতি অবুঝ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এ রকম আচরণ অগ্রহণযোগ্য।’
কিন্তু রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে জামাত প্রধানের এমন ক্ষোভের কারণ কী? সব কিছুর মূলে রয়েছে শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পর সাহাবুদ্দিন টেলিভিশন বার্তায় জানিয়েছিলেন, হাসিনা পদত্যাগপত্র তাঁর কাছে পেশ করেছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য হাসিনার পদত্যাগ সাংবিধানিকভাবে জরুরি ছিল। ওই বছরেই অক্টোবর মাসে সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি কেবল হাসিনার পদত্যাগের কথা শুনেছি, কিন্তু এর কোনো প্রমাণ আমার কাছে নেই। আমি অনেকবার পদত্যাগপত্র সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি।’