


বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: পহেলগাঁওতে জঙ্গি হানার পর প্রত্যাঘাত করেছে ভারত। তাতেই বেসামাল অবস্থা পাকিস্তানের। এই পরিস্থিতিতে বেপরোয়া হয়ে শনিবারও নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর জম্মু, পুঞ্চ, রাজৌরি সহ একাধিক এলাকায় গোলা-গুলি বর্ষণ করেছে পাক সেনা। তাদের ছোড়া গোলায় শনিবার জম্মু ডিভিশনের এক সিনিয়র সরকারি আধিকারিক সহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই সরকারি আধিকারিকের নাম রাজকুমার থাপা (৫৫)। তিনি রাজৌরির ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট কমিশনার পদে ছিলেন। প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট সুনাম ছিল তাঁর। সাধারণ মানুষের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন রাজকুমার। শুক্রবারও উপ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি জেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়েছিলেন। সেদিনই মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠকেও অংশ নিয়েছিলেন থাপা। শনিবার সকালে তাঁর বাড়িতে আছড়ে পড়ে পাকিস্তানি গোলা। তাতেই প্রাণ হারান শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। রূপনগরে রাজকুমারের পৈতৃক ভিটেয় গিয়ে নিহত আধিকারিকের বাবা দুর্গা দাসের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। এরপর এক্স হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘রাজকুমার থাপার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছি। তাঁর সেবা ও আত্মত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
শনিবার রাজৌরি শহরের শিল্পাঞ্চল এলাকায় পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে ঐশি নুর নামে দু’বছরের শিশুরও মৃত্যু হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন বিহারের বাসিন্দা মহম্মদ শোহিব। এছাড়া আরও তিনজন জখম হয়েছে। শনিবার সকালে পুঞ্চের মেন্ধারের কাংরা গুলথার রাশিদা বি (৬২) নামে এক মহিলাও পাক গোলাবর্ষণে জখম হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্য একটি ঘটনায় জম্মু জেলার আরএস পুরা সেক্টরে গোলাগুলির মধ্যে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিদিপুর জাট্টা গ্রামের বাসিন্দা অশোক কুমার।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার ভোর চারটে-সোয়া চারটে থেকে পাকিস্তানের তরফে তুমুল গোলাবর্ষণ শুরু হয়। তারপরই স্থানীয়দের সতর্ক করতে বেজে ওঠে সাইরেন। তাতে তুমুল আতঙ্ক ছড়ায় সাম্বা, আরএস পুরা, অখনুর, রাজৌরি, পুঞ্চ জেলার সীমান্ত লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ধর্মীয় স্থানগুলিকেও নিশানা করছে পাকিস্তানি সেনা। এদিন জম্মুর ঘন জনবসতিপূর্ণ রেহারি কলোনি ও আপার রুপ নগরে একটি বাড়ি ও শম্ভু মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। এদিনই ক্ষেপণাস্ত্রের মতো দেখতে একটি বস্তু শ্রীনগরের ডাললেকে শনিবার সকালে আছড়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটিতে বিস্ফোরণ হয়। চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। পরে লেক থেকে ওই অজানা বস্তুর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীনগরের কাছে লাসজান থেকেও অজানা একটি বস্তুকে উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।