


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: বিহার-ঝাড়খণ্ড সীমান্তর মাওবাদী অধ্যুষিত জামুই এখন বেআইনি অস্ত্র তৈরির ঘাঁটি। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে দুর্গম এই এলাকায় বেআইনি অস্ত্রের কারবারিরা মাওবাদীদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ছোটবড় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছে। যৌথ বাহিনীর লাগাতার অভিযান এবং একের পর এক শীর্ষনেতা ‘নিকেশ’ হয়ে যাওয়ায়, মাওবাদীদের তহবিল সংগ্রহে ভাটা পড়েছে। বেআইনি কারখানায় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করে অর্থ সংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা করেছে মাওবাদীরা। বিহারের এই নয়া ‘মুঙ্গের’ ভাবাচ্ছে রাজ্য পুলিসের আধিকারিকদের। এখান থেকেই অস্ত্র পাচার হচ্ছে বাংলা,ঝাড়খণ্ড সহ বিভিন্ন রাজ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় ধরা পড়া আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারিদের জেরা করে এই তথ্য জানতে পেরেছেন আধিকারিকরা।
মুঙ্গেরে বহুকাল ধরেই চলছে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানা। এখানকার কারিগররা নাইন এম এম, সেভেন এম এম, স্টেনগান এমনকী একে সিরিজের ‘ভারতীয় ভার্সন’ তৈরিতে অত্যন্ত দক্ষ। তাদের ফিনিশিং আসল আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে টেক্কা দেবে। দোকান বা অন্য কারবারের আড়ালে চলছে বেআইনি আর্মস তৈরি। বিহার পুলিসের সঙ্গে এই রাজ্যের এসটিএফের একের পর এক অভিযানে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারখানার পর্দা ফাঁস হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র, সেগুলি তৈরির উপকরণ। ধরা পড়েছে বেআইনি কারখানার মালিক ও মিস্ত্রিরা।
বারবার এই অপারেশনের কারণে ডেরা বদলাতে বাধ্য হয়েছে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারিরা। রাজ্য পুলিস সূত্রে খবর, তাদের নতুন ডেরা এখন জামুই। এখানকার গরহি, রোপা বেল, কল্যাণপুর, হরনাহা চক, আরসার এবং চরকাপাথরের মতো এলাকায় গজিয়ে উঠেছে বেআইনি অস্ত্রের কারবার। বাংলার সঙ্গে সরাসরি কোনও সীমানা নেই এই জেলার। ঝাড়খণ্ডের গিরিডি ও কোডারমা জামুই এর কাছে। আবার গিরিডি দিয়ে অনায়াসে পুরুলিয়া চলে আসা যায়। আসা যায় আসানসোলেও। অনেকদিন ধরে বিহারের এই অংশটি মাওবাদী অধ্যুষিত। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এই এলাকার বেশ কিছু জায়গা দুর্গম। এখানকার অধিকাংশ গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। যে কারণে এখানে মাওবাদীরা অনেকদিন ধরেই ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে। এখানকার বহু গ্রামেই পুলিস ঢুকতে পারে না মাওবাদীদের দাপটে। তাই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারিরা এই জায়গাকে বেছে নিয়েছে। মুঙ্গের থেকে সরতে শুরু করছে এই কারবার। আর তাদের পুরো সহযোগিতা করছে মাওবাদীরা। তাদের মদতেই অনায়াসে জামুইয়ের বিভিন্ন গ্রামে বেআইনি অস্ত্র কারখানা তৈরি হয়েছে। তারাও বেআইনি অস্ত্র কবারবারে টাকা ঢেলেছে। এমনটাই জানতে পারছেন তদন্তকারীরা। জামুইয়ের বেআইনি কারখানায় তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করছে মাওবাদীরা। সেই সঙ্গে বাংলা, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের অস্ত্র কারবারিরা জামুইয়ের বেআইনি অস্ত্র কারখানা থেকে বিভিন্ন ধরনের আর্মস কিনে নিয়ে যাচ্ছে। যা তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার গ্যাংস্টারদের হাতে পৌঁছচ্ছে। গিরিডি এবং কোডারমা হয়েই তা আসছে এই রাজ্যে। এই আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করে যে টাকা আসছে, তার একটা ভাগ পাচ্ছে মাওবাদীরা। যা দিয়ে তহবিল চাঙ্গা করার চেষ্টা চলছে।