


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ডিজিটাল লেনদেনের জন্য ইউপিআই অ্যাপের সমস্যা হয়েছিল। তাই গুগল থেকে সার্চ করেছিলেন কাস্টমার কেয়ারের নম্বর। তাতে ফোনও করেছিলেন। কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভের পরামর্শে মাত্র ১ টাকা পেমেন্ট করেছিলেন তিনি। তারপরই অ্যাকাউন্ট থেকে লোপাট হয়ে যায় ৫ লক্ষ টাকা! এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রতারিত প্রৌঢ়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে ঝাড়খণ্ডের দেওঘর থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেওঘরেই তার বাড়ি। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম ঘনশ্যাম হাঁসদা। টাকা উদ্ধার সহ এই কাণ্ডে জড়িত বাকিদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিস। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিজিটাল লেনদেন করার জন্য ওই প্রৌঢ় দু’টি ইউপিআই অ্যাপ ব্যবহার করতেন। দু’টি পৃথক সংস্থার অ্যাপ ছিল। বেশ কয়েকদিন ধরে তার মধ্যে একটি অ্যাপ কাজ করছিল না। ফলে, তিনি ওই অ্যাপে কোনও পেমেন্ট করতে পারছিলেন না। সমস্যা সমাধানে গুগলে সার্চ করে তিনি অ্যাপের কাস্টমার কেয়ারের নম্বর দেখতে পান। ওই নম্বরটি প্রতারকের নম্বর ছিল। তিনি ওই নম্বরে ফোন করে সমস্যার কথা বলেন। প্রতারকরা তাঁকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলেন। প্রৌঢ় বিশ্বাস করে সেই অ্যাপ ডাউনলোড করে ইনস্টলও করেন। এর ফলে, প্রৌঢ়র ফোনটি প্রতারকদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
প্রৌঢ়ের মোবাইলে দ্বিতীয় ইউপিআই অ্যাপটি কাজ করছিল। প্রতারকরা তাঁকে বলে, যে ইউপিআই অ্যাপটি কাজ করছে তা থেকে যে কোনও অ্যাকাউন্টে আপনি ১ টাকা পেমেন্ট করুন। তিনি একটি অ্যাকাউন্টে তা পাঠিয়ে দেন। তারপর তাঁর অ্যাকাউন্টে ৯৮ হাজার ৪৯৯ টাকা ডেবিট হয়ে যায়। প্রতারকরা যে অ্যাপ ইনস্টল করিয়েছিল, তা ব্যবহার করে ওই টাকা তুলে নেয়। প্রৌঢ় ফের ফোন করে বলেন, তাঁর ৯৮ হাজার ৪৯৯ টাকা ডেবিট হয়ে গিয়েছে! তখন প্রতারকরা ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তাঁর অপর একটি অ্যাকাউন্টের সমস্ত তথ্য নেয়। ওটিপিও জেনে নেয়। তারপরই অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই প্রৌঢ় থানায় অভিযোগ জানান। পুলিস ঝাড়খণ্ডের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে।