


মেলবোর্ন: রড লেভার এরিনা তখন উত্তেজনায় কাঁপছে। ম্যাচ পয়েন্টের খোঁজে নোভাক জকোভিচ যেন শিকারি চিতা। ক্যাম্বিস বল দু’বার ড্রপ খাইয়ে কামান দাগলেন র্যাকেটে। ক্ষণিকের অপেক্ষা। জানিক সিনারের ব্যাকহ্যান্ড বাইরে যেতেই জকোভিচের মুঠোয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালের ছাড়পত্র। সবুজ রঙের টি শার্ট ঘামে জ্যাবজ্যাবে। চিরবিশ্বস্ত র্যাকেট হাওয়ায় উড়িয়ে হাঁটু গেড়ে বসলেন ৩৮ বছরের মহারথী। পাখির মতো ডানা মেলে হয়তো উড়তে চাইলেন আকাশে। ইস্পাত কঠিন নার্ভের সার্বিয়ানকে আবেগাপ্লুত হতে খুব একটা দেখা যায় না। কেরিয়ারের ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ও জকোভিচের মাঝে এখন শুধুই কার্লোস আলকারাজ। চার ঘণ্টার লড়াইয়ে জিতে জোকারের অভিব্যক্তিতে পরম স্বস্তি। ম্যাচ শেষে সঞ্চালকের সঙ্গে রসিকতাতেই তা স্পষ্ট। সেটাই স্বাভাকি। কারণ গত দু’বছর যে একটাও গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাবও তাঁর কপালে জোটেনি! ২০২৪ সালে শেষবার কোনও মেজর টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছেছিলেন জোকার। উইম্বলডনের সেই খেতাবি লড়াইয়ে নোভাকের স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়েছিলেন আলকারাজই। এবার জোকারের সামনে বদলা নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।
শেষ পাঁচ সাক্ষাতেই সিনারের কাছে পরাস্ত হয়েছিলেন জকোভিচ। তার উপর দ্বিতীয় বাছাই ইতালিয়ান তরুণ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে গত দু’বারের চ্যাম্পিয়ন। চলতি টুর্নামেন্টেও রাজার মতো এগিয়েছেন। রড লেভার এরিনায় এদিনও ৬-৩ গেমে প্রথম সেট পকেটে পুরলেন অবলীলায়। কিন্তু হাল ছাড়েননি সার্বিয়ান কিংবদন্তি। পরের সেটেই পাল্টা আক্রমণ। নাছোড়বান্দা মনোভাবে ৬-৩ ব্যবধানে জিতে সমতা ফেরালেন ম্যাচে। পরের তিনটি সেটেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। শেষপর্যন্ত জকোভিচের অনুকূলে ম্যাচের ফল ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪। বেতের মতো শরীর ম্যাচের পরও টানটান। বোঝা গেল, গত দুই ম্যাচের ওয়াক ওভার তাঁর এনার্জি রক্ষায় মহৌষধের কাজ করেছে। ম্যাচ শেষে জকোভিচ বললেন, ‘প্রতিপক্ষ হিসাবে সিনারকে সম্মান করি। ওর লড়াইকে কুর্নিশ জানাতে হয়।’ দীর্ঘ কেরিয়ারে রেকর্ড দশবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন তিনি। সবচেয়ে প্রিয় মঞ্চেই ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে বদ্ধপরিকর দেখাচ্ছে জোকারকে।
দিনের অপর সেমি-ফাইনালেও ছিল ভরপুর নাটকীয়তা। আলেকজান্ডার জেরেভের বিরুদ্ধে পাঁচ সেটের ম্যারাথন লড়াইয়ে বাজিমাত করেছেন আলকারাজ। শীর্ষ বাছাই স্প্যানিশ তারকার ঝুলিতে ছ’টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ঝলমল করলেও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের স্বাদ পাননি এখনও। পেশির টান উপেক্ষা করেই ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের লড়াইয়ে জেরেভকে বশ মানান আলকারাজ। ম্যাচের ফল ৬-৪, ৭-৬ (৭-৫), ৬-৭ (৩-৭), ৬-৭ (৪-৭), ৭-৫। মাঝেমধ্যেই চোট মাথাচাড়া দিয়েছে। কিন্তু তিনি আলকারাজ। আত্মবিশ্বাসে ভর করেই নিশ্চিত করেছেন ফাইনালের টিকিট। ম্যাচ শেষে বলেন, ‘নিজের উপর বিশ্বাস ছিল। সেটাই আমার শক্তি।’ সেই বিশ্বাসে ভর করেই জকোভিচকে টেক্কা দিতে তৈরি আলকারাজ।