


সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে নাগা সাধুদের আনাগোনা সাধারণ ব্যাপার। প্রতিবছরই তাঁদের দেখা মেলে এইসময়ে। কিন্তু এবারে একটু ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়ল মেলা প্রাঙ্গণে। কারও পরনে লাল শাড়ি, আবার কেউ পরেছেন গেরুয়া বসন। সবার গলায় ও হাতে রুদ্রাক্ষের মালা। কপালে বড়ো লাল টিপ। হাতে ত্রিশূল ও ডমরু। এরা কিন্নর সাধু-সন্ন্যাসিনী। মেতে উঠেছেন উৎসবের মেজাজে। এক অপরের হাত ধরাধরি করে নৃত্য পরিবেশন করতেও পিছপা হননি তাঁরা। যেন বড়ো সাফল্য পেয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের কাছে এটা অবশ্যই বড়ো ব্যাপার বটে। কারণ এই প্রথম গঙ্গাসাগরে নিজেদের আখড়া পেলেন কিন্নর সাধুরা। নাগাবাবাদের ভিড়ে এবার তাঁরাই যেন সেলিব্রিটি! ঘর পেয়ে ভীষণ খুশি এই সন্ন্যাসিনীরা। মন্দির প্রাঙ্গণে তাঁদের ক্যারিশমা প্রদর্শন করে বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীকে আকৃষ্ট করেন তাঁরা। আনন্দে মাতোয়ারা এই সাধুদের দেখতেই ভিড় জমে যায় মন্দির চত্বরে। দলে রয়েছে ১৫ জন। তাঁদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গায়ত্রী নন্দ গিরি নামে এক কিন্নর। কামাখ্যা ও তারাপীঠে এদের মূল ডেরা। সারাবছর বিভিন্ন ধর্ময়স্থানে ঘুরে বেড়ান তাঁরা। কখনও উজ্জয়িনী, কিংবা বারাণসী তো কখনও আবার প্রয়াগরাজ। কুম্ভ হলেই তাঁরা পৌঁছে যান। এভাবেই কেটে যায় বছরের একটা বড়ো সময়।
তারপর একদল ফিরে যান কামাখ্যা, আবার কেউ কেউ তারাপীঠ। গঙ্গাসাগরে নিজের সঙ্গী কিন্নর সাধুদের জন্য একটি আখড়া নিশ্চিত করতে পেরে গায়ত্রী নন্দ অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকবার গঙ্গাসাগর এসেছি। তবে মকর সংক্রান্তির স্নানের পর মেলা প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে ফিরে যেতে হয়েছে। কারণ কোনও আখড়া ছিল না। তাই সমুদ্রের ধারে একরাত থেকেই চলে যেতে হত। এবছরটা খুবই বিশেষ আমাদের জন্য। গুরুদের সাহায্যে আখড়া নিশ্চিত হয়েছে। তাই ১০ জানুয়ারি চলে এসেছি এখানে। মেলার শেষাবধি থাকব। আগে আখড়া না-পেয়ে এক প্রকার হতাশই ছিলেন এই কিন্নর সাধুরা। তাই মাঝে তিনবছর এখানে আসেননি তাঁরা। এবারে চেষ্টা চালিয়ে আখড়ার ব্যাপারটা তাঁরা নিশ্চিত করেছেন। এখানে মেলার ব্যবস্থাপনা দেখে বেশ উচ্ছ্বসিত কিন্নর সাধুরা।
গঙ্গাসাগরে নাচছেন কিন্নর সাধুরা। ছবি: পিন্টু মণ্ডল