


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালীপুজো ও তার পরের দিন শহরবাসী হাত খুলে আতশবাজি পুড়িয়েছে। ২ ঘণ্টা সবুজ বাজি ফাটানোর নিয়মকে কার্যত হেলায় উড়িয়ে দিয়ে সারারাত ধরে চলেছে শব্দবাজির তাণ্ডব। ফলও মিলল হাতেনাতে! বুধবার দুপুরে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বায়ু দূষণের সূচক (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই) বিপদসীমার উপরে চলে গিয়েছে। ২৫৮ সূচক নিয়ে শীর্ষস্থানে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল চত্বর। তারপরই রয়েছে যাদবপুর এলাকা (২০৮)। দেড়শোর উপরে একিউআই ছিল বালিগঞ্জ, ফোর্ট উইলিয়াম চত্বরে।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্যও বলছে, গত কয়েকদিনে ক্রমশ খারাপ হয়েছে শহর কলকাতার গড় একিউআই। গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান নিয়ে ২০ অক্টোবর অর্থাৎ কালীপুজোর দিন বিকেলে তারা যে তথ্য প্রকাশ করে, সেখানে শহরের গড় একিউআই ছিল ৮৩। ২১ তারিখে তা বেড়ে হয়ে যায় ১৭৪। ২২ তারিখ, বুধবার হয়েছে ১৪৬। বিশেষভাবে প্রভাব পড়েছে ভিক্টোরিয়া চত্বরে। অর্থাত্, শহরের ফুসফুস বলে পরিচিত ময়দান চত্বর আগামী কয়েকদিনের জন্য আর শ্বাস নেওয়ার উপযুক্ত রইল না! এদিন দুপুরের দিকে ময়দানে গিয়ে বোঝা গেল, ঝলমলে রোদের মধ্যেও কিছুটা দূরে ভিক্টোরিয়ার চূড়া স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। কতদিন চলবে এই পরিস্থিতি? পরিবেশকর্মী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলেন, ‘সবে মনসুন গিয়েছে। দীপাবলির পর আবার ছট পুজোও আছে। এভাবে যদি বাজির দাপট চলতে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দিন সাতেক তো লাগবেই। তবে বৃষ্টি হলে একিউআই অনেকটা ভালো হয়ে যাবে।’
কালীপুজো, দীপাবলি মিটলেও শহরের বাতাসের দূষণ এত বেশি থাকার অন্যতম কারণ যথেচ্ছ শেল ফাটানো বলেই মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, ‘আলোর বাজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন রঙের জন্য আলাদা আলাদা মেটাল ব্যবহার হয়। এগুলো ভয়ানক বিষাক্ত। মুষ্টিমেয় মানুষের উল্লাস গোটা শহরকে বিষাক্ত করছে।’ স্বাতীদেবীর কথায়, ‘শেলগুলির শব্দ তুলনামূলক কম হলেও পার্টিকুলেট ম্যাটার ছড়িয়ে পড়ছে। সেগুলি মাটির দিকে চলে এলে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।’ চিন্তার বিষয় আরও রয়েছে! ভিক্টোরিয়া চত্বরে বাতাসের গুণমান খারাপ হওয়ায় এই ঐতিহাসিক সৌধের ভালোরকম ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পরিবেশকর্মীরা। এই অবস্থায় তাঁদের প্রশ্ন, ‘এর দায় আসলে কার? যাঁরা আইন ভেঙে বাজি ফাটালেন, তাঁদের নাকি প্রশাসনের?’ তবে মঙ্গলবারও কলকাতা পুলিশের তৎপরতা নজরে এসেছে। আতশবাজি পোড়ানো ও অভব্য আচরণের জন্য পুলিশ যথাক্রমে ৪৩ ও ২৭৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। ১৮১.৩ কেজি আতশবাজি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ৩২.৪ লিটার বেআইনি মদও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। হেলমেট না থাকা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো সহ একাধিক অপরাধে ৩৬৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত বাজি ফাটানোর জন্য ৮ জন এবং অভব্য আচরণের জন্য ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।