


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘটনা-১: এন্টালি থানা এলাকা। সোমবার রাত দেড়টা। আচমকাই আকাশ থেকে নামতে শুরু করল একটি ফানুস। জ্বলন্ত সেই ফানুস গিয়ে পড়ে একটি কাঠের গুদামে। তাতেই বিপত্তি। গুদামে দাহ্য বস্তু থাকায় দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে। দমকলের ২টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
ঘটনা-২: দীপাবলির পরের রাত। ধর্মতলা চত্বর শুনশান। এলআইসি বিল্ডিংয়ের নীচে জামাকাপড়ের একটি স্টলে এসে পড়ে জ্বলন্ত ফানুস। রাত ১২টা। ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। সেই মুহুর্তেই ভয়াবহু অগ্নিকাণ্ড। কিন্তু, অল্পকিছুক্ষণের মধেই পুলিশকর্মীরা জল দিয়ে আগুন নেভান।
আইন মোতাবেক ফানুস সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কালীপুজোর আগে শহরবাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা। থানাগুলিকেও নজরদারির পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু, সেসব বাধা নিষেধের তোয়াক্কা না করে রাতের আকাশের দখল নিল ফানুস। দু’রাতে জ্বলন্ত ফানুসের জেরে শহরে ছোটো ও মাঝারি মিলিয়ে মোট ১৪টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে হতাহতের খবর নেই।
জ্বলন্ত ফানুসই গত দু’রাতে কলকাতায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে। পূর্ব যাদবপুর, শ্যামপুকুর, মুচিপাড়া, তালতলা, কালীঘাট, হরিদেবপুর, বেহালা সহ একাধিক জায়গায় ফানুস-সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ফানুসের উপর মানুষের কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। একটু জোরে হাওয়া বইলেই ফানুসে আগুন ধরে যায়। তখনই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে সেটি। সেই কারণে দমকল আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ফানুসকে।