


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অপারেশন লোটাস এবং ওয়াশিং মেশিনের যৌথ মিশন। ১০ দিন আগে আম আদমি পার্টি (আপ)-র রাজ্যসভা সাংসদ অশোক মিত্তালের বাড়িতে হানা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তারপর শুক্রবার মিত্তাল আপ ছেড়ে ভিড়লেন বিজেপিতে। ২০২৩ সালে আবগারি দুর্নীতির মামলার অতিরিক্ত চার্জশিটে রাঘব চাড্ডার নাম ঢুকিয়েছিল ইডি। এবার সেই রাঘবের নেতৃত্বেই মিত্তাল সহ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের সাত সাংসদ যোগ দিলেন পদ্ম শিবিরে। দলের সদর দপ্তরে তাঁদের সাদরে মালা পরিয়ে স্বাগত জানালেন বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীন। আপের রাজ্যসভার ১০ এমপির মধ্যে ৭ জনই দল বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
লক্ষ্য নিছক রাজ্যসভার সংসদ সংখ্যা বৃদ্ধি কিংবা আপকে ধাক্কা দেওয়া নয়। নেপথ্যে রয়েছে পাঞ্জাবে নির্বাচনের অঙ্ক। পাঞ্জাবে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ। কারণ তাদের জনপ্রিয় নেতাই নেই। কখনো কংগ্রেসের অমরিন্দর সিং, কখনো নভজ্যোৎ সিং সিধুদের নিয়ে এসে বিজেপি বহু এক্সপেরিমেন্ট করলেও পাঞ্জাবে কোনো সাড়া ফেলতে পারেনি। কংগ্রেস বনাম অকালি দলের যুদ্ধের ময়দানে বরং আচমকা আপ এসে টেক্কা দিয়েছে সকলকেই। অবিশ্বাস্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিতষ্ঠতা নিয়ে পাঞ্জাবে সরকার গঠন করেছে তারা। এবার আপের দলত্যাগীদের পাঞ্জাব ভোটে মুখ করতে চাইছে বিজেপি। তাই এই অপারেশন।
মিত্তাল ও চাড্ডার পাশাপাশি স্বাতী মালিওয়াল, সন্দীপ পাঠক, রাজেন্দ্র গুপ্তা, হরভজন সিং এবং বিক্রম সাহানি। আপের এই সাত সাংসদ বিজেপিতে গিয়েছেন। চাড্ডা বিজেপি সদর দপ্তরে বলেন, আমরা সাতজন এমপি স্বাক্ষর করে চিঠি দিয়েছি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে। আপের যত সংখ্যক এমপি আছে, তার দুই তৃতীয়াংশই দল ভেঙে বেরিয়ে এসেছে। সুতরাং দলত্যাগ বিরোধী আইন বলবৎ হবে না বলেও দাবি চাড্ডার। মালিওয়াল আগেই দলের থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন। চাড্ডার সঙ্গে সম্প্রতি দূরত্ব ও তিক্ততা বৃদ্ধি হয়। তাঁকে রাজ্যসভার উপ দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে মিত্তালকে সেই পদে আনা হয়। কিন্তু বিজেপি অপারশেন লোটাসে যে গোটা আপকেই টার্গেট করেছে, তা কেজরিওয়াল ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি। আর শুক্রবার দলত্যাগীদের নাম দেখেই স্পষ্ট হয়েছে যে, টার্গেট পাঞ্জাব। আপ এমপি সঞ্জয় সিং বলেছেন, মোদিজি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি একা আর পাঞ্জাব দখল করতে পারবেন না। তাই আপ ভাঙার দরকার হচ্ছে। কিন্তু লাভ নেই। ইডি-সিবিআই দিয়ে ভয় দেখিয়ে কিছু মেরুদন্ডহীনকে কেনা যায়। কিন্তু পাঞ্জাববাসীকে প্রতারিত করা যায় না। এই অনৈতিক পদক্ষেপের কঠোর জবাব ভোটে দেবে পাঞ্জাববাসী।