


নয়াদিল্লি: রাঁচির ইসলামনগরের এক কোণে তবরক লজ। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে হোটেল। ভিতরে ঢুকলে একটি জরাজীর্ণ, অন্ধকার বাড়ি। সেখানে ছোট ছোট ঘরে সস্তার প্লাইউডের দরজা। ভাড়া নেওয়া ঘরের বাইরে সারি সারি জুতো ও চটি। কয়েক পা এগিয়ে বাঁদিকেই ১৫ নম্বর ঘর। এই ঘরে হানা দিয়ে বড়সড় নাশকতার ছকের পর্দাফাঁস করল দিল্লি পুলিস ও ঝাড়খণ্ড পুলিসের সন্ত্রাস দমন শাখা। হলুদ দরজার এই ঘরে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন আইএসের জন্য বোমা বানাচ্ছিল আসার নামে এক ব্যক্তি। গত বছর থেকে সরকারি চাকরির জন্য এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা বলে ওই ঘর ভাড়া নিয়েছিল সে। কিন্তু বাস্তবে ওই স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে বসে বোমা ও অস্ত্র বানাচ্ছিল সে। পাশাপাশি চলছিল আইএসের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির কাজ। সম্প্রতি সূত্র মারফত খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে দানিশ সহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় বোমা, বোমা বানানোর সরঞ্জাম ও অস্ত্র।
গত সপ্তাহে আফতাব কুরেশি নামে এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছিল দিল্লি পুলিশ। তাকে জেরা করেই তবরকের ওই ঘরের হদিশ পায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, দানিশের ঘর থেকে গানপাউডার, বিভিন্ন ধরনের বোমা, পটাশিয়াম নাইট্রেট সহ একাধিক বস্তু উদ্ধার করা হয়।
কীভাবে শুরু হয়েছিল এই চক্র? জানা গিয়েছে, গত বছর পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যই তবরকে আসে দানিশ। এরইমধ্যে একদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ এক পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সঙ্গে আলাপ হয়। নিমেষের মধ্যে দানিশের মগজধোলাই করে স্ক্রিনের ওপারে বসে থাকা ওই ব্যক্তি। তারপর থেকে দানিশও অন্যান্যদের একই কায়দায় দলে টানতে শুরু করে। পাক হ্যান্ডলারের থেকে বিধ্বংসী বোমা তৈরির প্রশিক্ষণও নিচ্ছিল দানিশ। ‘সিগনাল’ মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে চলত নিয়োগ ও উস্কানির যাবতীয় কাজ। সাধারণ নাম দিয়ে একাধিক গ্রুপ বানানো হতো। এসব গ্রুপের মাধ্যমেই অর্থ জোগাড় করা হতো। তারপর সেই টাকা দিয়ে কেনা হতো বোমা তৈরির সরঞ্জাম।