


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২২-২০২৫—এই তিনবছরে মশাবাহিত রোগদমনে অসম্ভব অগ্রগতি হল রাজ্যে। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর এবং জাপানিজ এনসেফেলাইটিস (জেই)—চার রোগেই আাক্রান্তের সংখ্যা কোনও কোনও ক্ষেত্রে কমে হয়েছে অর্ধেক, কোথাও-বা তিনভাগের একভাগেরও কম। প্রথমেই আসা যাক বাঙালি গৃহস্থের অন্যতম উদ্বেগের কারণ ডেঙ্গুর ব্যাপারে। ২০২২ সালে বাংলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন কমবেশি প্রায় ৬৫ হাজার। তিনবছরের ব্যবধানে, এবছর তা আরও কমে হয়েছে তিনভাগের একভাগেরও কম—২১ হাজারের কাছাকাছি।
আসা যাক আর এক মশাবাহিত পরজীবীঘটিত রোগ ম্যালেরিয়ার বিষয়ে। উদ্বেগের গ্রাফ হলে দেখা যেত, ডেঙ্গুর সমানতালে উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে ম্যালেরিয়া। যদিও গত কয়েকবছর ধরে ম্যালেরিয়া যে আর সেই তেজে নেই, তা বলাই বাহুল্য। এবার দেখা যাক, পরিসংখ্যান কী বলছে? স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, ২০২২ সালে দুই ধরনের ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন ৪০,৬০০ মতো রোগী। সেখানে ২০২৫-এ, অর্থাৎ তিনবছরের ব্যবধানে তা কমে হয়েছে অর্ধেক—২১ হাজারের কাছাকাছি। কমেছে কালাজ্বর এবং জেই’ও। যেমন ২০২২ সালে কালাজ্বরে আক্রান্ত হন ১৬০ জন। ২০২৫-এ তা কমে হয়েছে প্রায় অর্ধেক—৮৫। জেই ২০২২ সালে সংক্রামিত হয়েছিল বাংলার ৫৪ জনের দেহে। ২৫ সালে তা অনেকটাই কমে হয়েছে ৩২।
কিন্তু রাজ্যে মশাবাহিত রোগ এভাবে কমে যাওয়ার ঘটনা কি নেহাতই কাকতালীয়? নাকি শুধুমাত্র স্বাস্থ্যদপ্তরের ভালো কাজের জন্য তা সম্ভব হল? অথবা প্রকৃতির আশীর্বাদ এবং স্বাস্থ্যদপ্তরের ভালো কাজ দুটো মিলিয়েই তা সম্ভব করল?
দপ্তরের পদস্থ সূত্রের খবর, কালাজ্বর এবং ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে যেভাবে সংক্রমণ কমেছে, তাকে শুধুমাত্র প্রকৃতির আশীর্বাদ বলা যায় না। দ্রুত রোগনির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগসচেতনাবৃদ্ধির জন্যই সংক্রমণ এতটা কমানো গিয়েছে। অন্যদিকে ডেঙ্গু এবং জেই’র ক্ষেত্রে ভেক্টর কন্ট্রোল বা বাহক (এক্ষেত্রে মশা) নিয়ন্ত্রণ হয়েছে আরও যথাযথভাবে। এই বিষয়ে পুরসভা এবং পঞ্চায়েতগুলি সদর্থক ভূমিকা নিয়েছে। এরই পাশাপাশি পতঙ্গবিদদের আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়েছে। কোন কোন স্থানে রোগের বাড়াবাড়ি হতে পারে, তার ইঙ্গিত পেয়ে তাঁদের পরামর্শগুলি নিয়ে যথোচিত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।