


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ‘অমল পন্ডা জয়েন করল তো কি বয়ে গেল!...জয়েন করলেই কি বিজেপিতে এত তাড়াতাড়ি টিকিট পেয়ে যাবে? অমল পন্ডাতো আমার কাছ থেকে ভালো মাল্লু নিয়েছিল, হেল্প তো করল না। মাল্লু তো মেরে দিল!’ সম্প্রতি এমনই একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে (যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। আর এই অডিও ঘিরেই এখন শোরগোল পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। তৃণমূলের দাবি, ভাইরাল হওয়া অডিওতে কথাগুলি যিনি বলছেন, তিনি ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অমূল্য মাইতি। নিজের ঘনিষ্ঠ এক বিজেপি কর্মীর সঙ্গেই অমূল্যবাবুর এই কথোপকথন। যদিও, অভিযোগ অস্বীকার করে অমূল্যবাবু বলেন, অডিওটি এআই দিয়ে তৈরি। এ সব তৃণমূলের চক্রান্ত।’
সবংয়ের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অমূল্য মাইতি একসময় তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। ‘দাদার অনুগামী’ হিসেবে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে মেদিনীপুর শহরে অনুষ্ঠিত অমিত শাহের সভায় বিজেপিতে যোগদান করেন তিনি। ২০২১ সালে সবং বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন অমূল্যবাবু। যদিও, তৃণমূলের মানসরঞ্জন ভুঁইয়ার কাছে হার মানতে হয় তাঁকে। সবংয়ের আরেক প্রবীণ রাজনীতিবিদ অমল পন্ডা অবশ্য সেইসময় তৃণমূলেই ছিলেন। মানসবাবুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবেই জেলা রাজনীতিতে পরিচিত ছিলেন। সামলেছেন সবং ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতির পদও। পরে তিনি ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যানও হয়েছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অমলবাবু বিজেপিতে যোগদান করেন দলছুট দাদার হাত ধরেই।
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অডিওটি সেই সময়ের (জানুয়ারি মাসের) বলেই রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের দাবি। গত ৮ মার্চ বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সভা ছিল সবংয়ে। সেই সভায় একই মঞ্চে ছিলেন অমূল্য মাইতি ও অমল পন্ডা। দু’জনে একযোগে আক্রমণ করেন সবংয়ের বিধায়ক তথা মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়াকে। তারপরই তৃণমূলের তরফে এই অডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর।
বৃহস্পতিবার অমূল্যবাবু অবশ্য বলেন, ‘এটা এআইয়ের যুগ। তৃণমূলই এআই দিয়ে এটা বানিয়েছে। তবে, এতে লাভ কিছু হবে না। তৃণমূলের পিংলার ব্লক সভাপতি শেখ সবেরাতি বরং বিজেপিতে আসার জন্য আমার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।’ পত্রপাঠ অমূল্যবাবুর দাবি খারিজ করে দিয়ে সবেরাতি সাহেব বলেন, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ। অমল পন্ডার সঙ্গে টিকিট পাওয়া নিয়ে অমূল্য বাবুর লড়াই চলছে। তাই এখন আমাদের নামে ভুলভাল বকছেন।’ অন্যদিকে, সবং ব্লক তৃণমূলের সভাপতি আবু কালাম বক্স বলেন, ‘ওই অডিওতে যদি অমূল্য মাইতির ভয়েস না থাকে, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। চাপে পড়ে এখন ওই অডিওকে এআই বলে চালাতে চাইছেন! আসলে বিজেপি নেতাদের এটাই চরিত্র। মানুষ সব দেখছেন।’