


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও চুঁচুড়া: এসএসসি গ্রুপ ডি পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা ছিল রবিবার। আর এদিনই বহু লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনে। কারণ, লাইন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। একের পর এক ট্রেন বাতিল থাকার কারণে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। হাওড়া, হুগলি সহ বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসার পথে বিস্তর সমস্যায় পড়তে হয় তাঁদের।
এদিন দুপুর ১২টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ১০টার মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে হত। হাওড়ার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে নির্ধারিত কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছতে বহু পরীক্ষার্থীকে ভোররাতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়তে হয়। কিন্তু ট্রেন বাতিল থাকায় তাঁদের অধিকাংশকেই বাস, ছোটো গাড়ি বা বিকল্প পরিবহণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে হয়েছে। একাধিক কেন্দ্রে বেলা ১১টার সময়ও পরীক্ষার্থীদের ঢুকতে দেখা গিয়েছে। বেলুড়ের লালবাবা কলেজে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীরা জানান, ট্রেন না চলায় তাঁদের ভোগান্তি দ্বিগুণ হয়েছে। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, পরীক্ষার দিন তো অনেক আগে থেকে নির্ধারিত ছিল। তাহলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো গেল না কেন? তন্ময় মালি নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘আমি কোনা থেকে আসছি। ট্রেনের সমস্যা জানতে পেরে প্রথমে বাসে, তারপর অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে টোটো করে আসতে হল।’ হাওড়া ময়দান সংলগ্ন অক্ষয় শিক্ষায়তনে পরীক্ষাকেন্দ্র হয়েছিল। সেখানে হুগলির শ্রীরামপুর পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন তনিমা সেনগুপ্ত। তিনি বললেন, ‘ট্রেন না থাকায় খুব ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাস ধরতে হয়েছে।’ পরীক্ষার্থীদের অনেকেই কমবেশি একই দুর্ভোগের কথা জানান।
রেল সূত্রে খবর, ব্যান্ডেল, শেওড়াফুলি, পাণ্ডুয়া, মেমারি, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, বর্ধমান, চন্দনপুর, শিয়ালদহ ও ডানকুনির একাধিক লোকাল এদিন বাতিল ছিল। ফলে হাওড়া স্টেশন এবং ব্যান্ডেল শাখার বিভিন্ন স্টেশনে সকাল থেকে অস্বাভাবিক ভিড় দেখা যায়। রবিবার হওয়া সত্ত্বেও ভিড় টেক্কা দিয়েছে সপ্তাহের কাজের দিনগুলিকে। রেলের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, ট্রেন বাতিল ও সময়সূচির পরিবর্তনের বিষয়টি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। যাত্রা শুরুর আগে স্টেশন বা রেলের সরকারি ওয়েবসাইটে সময়সূচি দেখে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে যাত্রীদের। এদিকে, ট্রেন বাতিলের প্রভাব পড়ে হুগলিতেও। বিশেষ করে জেলার অন্যতম বড় পাইকারি সবজি বাজার শেওড়াফুলিতে সকাল থেকে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়ে। পাশাপাশি, শহরতলি থেকে কলকাতা ও হাওড়ায় কাজ করতে যাওয়া বহু গৃহ পরিচারিকা সমস্যায় পড়েন।