


নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: এপিক নম্বর এক। আর ভোটার একাধিক! নদীয়া জেলাজুড়ে এই সমস্যার হয়রানির শিকার হচ্ছেন বহু ভোটার। ইনিউমারেশন ফর্ম জমা করতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বৈধ ভোটারদের। ফর্ম জমা করার সময় তাঁরা জানতে পারছেন যে, তাঁর ফর্ম আগেই জমা পড়ে গেছে অন্য বিধানসভা এলাকা থেকে। তাঁদের এপিক নম্বরের ভিত্তিতেই অন্য এলাকার বাসিন্দাকে ম্যাপিং করা হয়েছে। এবার সেই সমস্ত ভোটারদের ফর্মের ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া নানাভাবে ব্যহত হচ্ছে। অনেকেই একে ‘এপিক চুরি’ বলেও মনে করছেন। যদিও প্রশাসনের দাবি, বিএলও’রা কোথাও যদি দেখেন কোনও ভোটারকে অন্যত্র ম্যাপিং করা হয়েছে, তাহলে সেখানকার বিএলও’দের কাছ থেকে ক্রস চেক করে অ্যাপে এডিট করতে পারবেন। তবে এসআইআরের প্রথম ধাপের শেষ পর্যায়ে এসে এই ধরণের সমস্যা সাধারণ ভোটারদের মনেও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কৃষ্ণনগর শহরের বাসিন্দা প্রণব চক্রবর্তী ১৯৯০ সাল থেকে ভোট দিচ্ছেন। তিনি ছাড়াও তার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাইপো সহ পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁদের নাম রয়েছে। প্রণববাবু বলেন, আমরা এসআইআরের মোট চারটি ফর্ম পেয়েছিলাম। সেই ফর্মগুলি ফিলআপ করে বিএলও-র কাছে জমা দিই। কিন্তু, আমার ফর্মটি বিএলও যখন অনলাইনে তুলতে যান তখন দেখা যায় সেটি আগেই কলকাতার এন্টালি এলাকা থেকে জমা পড়ে গিয়েছে। আমরা আতঙ্কে রয়েছি।
একই সমস্যায় পড়েছেন চাপড়ার করুইগাছির দুদখোলার বাসিন্দা সনকা পাত্র। তিনি বলেন, আমাকে ফর্ম দেওয়া হয়েছিল। সেই ফর্ম ফিলআপ করে জমা করি। কিন্তু, বিএলও জানায় আমার ফর্মটি অনলাইনে আপডেট হয়নি। আমার ফর্মটি কলকাতার বিধাননগর থেকে সাবমিট করা হয়েছে। কে বা কারা এরম করেছে আমি জানি না। বিএলও সুভাষচন্দ্র হালদার বলেন, ওনার ম্যাপিং হয়ে রয়েছে বিধাননগরে। তাই আমি নতুনভাবে ম্যাপিং করতে পারছি না। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, এটা নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। কারণ এখনোও হাতে সময় আছে। যেখানে এরকম সমস্যা আসছে, সেখানকার সংশ্লিষ্ট বিএলওদের বলাই আছে যে কোথাও ম্যাপিং হয়ে গিয়ে থাকলে সেখানকার বিএলওদের থেকে তাঁরা ক্রস চেক করবেন। সেই অনুযায়ী এডিট করার সুযোগ রয়েছে বিএলও অ্যাপে।
প্রসঙ্গত, এসআইআরের প্রথম ধাপের কাজ কার্যত শেষ। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই খসড়া তালিকা প্রকাশ হবে। ভুয়ো ব্যক্তিকে বাবা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করার ঘটনা ইতিমধ্যেই নজরে এসেছে। কারণ দেখা গিয়েছে, বর্তমান বাবার নামের সঙ্গে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবার নামের কোনও মিল নেই। দু’জনই সম্পূর্ণ আলাদা ব্যক্তি। যদিও বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ফের যাচাই করার পাশাপাশি বাবা ও ছেলের বয়সের পার্থক্য অস্বাভাবিক কিনা সেটাও দেখা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় মোট ৪৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৮৩৮ জন ভোটার রয়েছেন। যার মধ্যে ডিজিটাইজেশনের কাজ ৯৯.৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৬০০ ভোটারের ডিজিটাইজেশন বাকি ছিল।