


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: উত্তর হাওড়ার আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার এক ব্যক্তির দেহ। সেই ফ্ল্যাট থেকেই পাওয়া গিয়েছে আরও দুই নাবালককে। তাদের আটক করে মালিপাঁচঘরা থানার পুলিশ। রহস্যজনক ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার সালকিয়ার কৈবর্ত্যপাড়া লেন এলাকায়। মৃত ব্যক্তির নাম দেবব্রত পাল (৪৮)। আটক নাবালকদের মধ্যে একজন আবাসনের সেক্রেটারির ছেলে বলে জানা গিয়েছে। অন্যজন তার বন্ধু। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই দু’জন মিলেই দেবব্রতকে খুন করেছে। তারা সকালে এই ফ্ল্যাটে কী করছিল, কেনই বা খুনের ঘটনা— সবটাই ধোঁয়াশা পুলিশের কাছে। দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
সালকিয়ার কৈবর্ত্যপাড়া লেনের ছ’তলা আবাসনের চারতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন দেবব্রত পাল। একটি বেসরকারি বিমা সংস্থায় চাকরি করতেন তিনি। বাড়িতে বৃদ্ধা মা ও কন্যাসন্তান রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁরা এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন দেবব্রত। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে দেবব্রতর মামা তপন নন্দী ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। রাতে ছিলেন তিনি। এদিন সকাল পৌঁনে ৮টা নাগাদ তিনি বেরিয়ে যান। তপনবাবু বলেন, ‘আমি ওর ফ্ল্যাট থেকে বেরোনোর প্রায় ঘণ্টাখানেক বাদে দিদি ফোন করে। বলে, দেবব্রতকে নাকি ফোনে পাচ্ছে না। এরপর আমি আবার ফ্ল্যাটে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি সেখানে ভিড়।’ ফ্ল্যাটের আবাসিকদের কথায়, সকাল ৯টা নাগাদ আবর্জনা সংগ্রহ করতে আবাসনে আসেন পুরসভার কর্মী। তিনি দেবব্রতর ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে গোঙানির আওয়াজ পান। সঙ্গে সঙ্গে ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দাদের তিনি বিষয়টি জানান। আবাসিক প্রিয়াঙ্কা দাস বলেন, ‘আমরা ওই ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতেই আওয়াজ থেমে যায়। বোঝা যাচ্ছিল, ভিতরে দেবব্রতবাবু ছাড়াও অন্য কেউ রয়েছে। কিন্তু কেউই দরজা খুলছিল না। এরপর ধাক্কা দিয়ে দরজা ভাঙা হয়।’ ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা দেখেন, মেঝের উপর পড়ে রয়েছেন দেবব্রতবাবুর দেহ। তাঁর মুখ, কান সহ একাধিক জায়গায় রক্ত, আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘরের ভিতরে এক অপরিচিত নাবালককে দেখতে পান প্রতিবেশীরা। ফ্ল্যাটের বাথরুমে দেখতে পাওয়া যায় আবাসনেরই সেক্রেটারি পিন্টু দাসের নাবালক ছেলেকে। ততক্ষণে খবর পেয়ে ফ্ল্যাটে এসে পৌঁছোয় মালিপাঁচঘরা থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দুই নাবালক প্রথমে অসুস্থ হওয়ার ভান করলেও তাদের শারীরিক পরীক্ষার পর দেখা যায় সম্পূর্ণ সুস্থ। তাদের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই দু’জন মিলেই দেবব্রত পালকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। তার আগে তিনজনের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে বচসার জেরেই তিনি সম্ভবত খুন হয়েছেন বলে অনুমান পুলিশের। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আবাসনের সেক্রেটারি পিন্টু দাস সস্ত্রীক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছেন। তাঁদের নাবালক ছেলে একাই ছিল ফ্ল্যাটে। অপর নাবালকটি তারই বন্ধু।
কিন্তু এই দু’জন দেবব্রতর ফ্ল্যাটে কী করছিল, তা সন্দেহের উদ্রেক করেছে। জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে দেবব্রতবাবুর স্ত্রী আত্মঘাতী হন। তারপর মা ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন তিনি। আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দার সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ভালোই ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই নাবালকের সঙ্গে টাকা-পয়সা লেনদেন ছাড়াও অন্য কোনও বিষয় নিয়ে হয়তো ঝামেলা হয়েছিল দেবব্রতর। দুই নাবালককে আজ, মঙ্গলবার হাওড়া জুভেনাইল কোর্টে পেশ করবে পুলিশ।