


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শীতের মরশুমে দেশ-বিদেশের হরেক পাখির দেখা মেলে সুন্দরবনে। বিরল প্রজাতির কিছু পাখি আর পাঁচটি পরিযায়ী পাখির সঙ্গে প্রতিবারই আসে এই অরণ্যে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। বাদাবনের গভীরে এবার দর্শন মিলেছে হোয়াইট রাম্পড ভালচারের। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের দাবি, এই প্রথম শকুন প্রজাতির এই পাখি দেখা গেল এখানে। সরকারিভাবে সেটি নথিভুক্ত হল। সদ্য সমাপ্ত চতুর্থ বার্ড ফেস্টিভালে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের ক্যামেরায় এই শকুনের ছবি ধরা পড়েছে। জানা গিয়েছে, নেতিধোপানিতে দুটি হোয়াইট রাম্পড ভালচারকে একটি গাছের মাথায় ডানা মেলে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই পাখি অত্যন্ত বিপন্ন বলে চিহ্নিত। গত কয়েক দশক ধরেই এই পাখির সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর জন্য ডাইক্লোফেনাকের বিষক্রিয়াই দায়ী। পশু চিকিৎসায় নন-স্টেরয়েড অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গবাদি পশু মারা যাওয়ার পরও সেই ওষুধের অস্তিত্ব থাকে শরীরে। এই অবস্থায় পাখিরা তাদের মাংস খেলে কিডনি বিকল হতে পারে। যা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সুন্দরবনে এই শকুনের দর্শন পেয়ে উচ্ছ্বসিত পক্ষপ্রেমী থেকে টাইগার রিজার্ভের আধিকারিকরা।
এদিকে, গতবারের তুলনায় এবারের বার্ড ফেস্টিভালে কম সংখ্যক পাখির দেখা মিলেছে। কারণ হিসেবে আধিকারিকরা বলছেন, এবার মেদিনীপুর, রূপনারায়ণের ধারে পাখির ঝাঁক বেশি এসেছে। তাই সুন্দরবনের দিকে তাদের আনাগোনা কম। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এবছর মোট ৩০,৯৮৬টি পাখি দেখা গিয়েছে। গতবার এই সংখ্যা ছিল ৩১,৯২৬। তবে তাৎপর্যপূর্ণ হল, প্রজাতির সংখ্যা এবার বেড়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে ১৫৪টি প্রজাতির পাখি এসেছিল, সেখানে এবার এসেছে ১৬৮টি। এর মধ্যে ১৪টি বিপন্ন তালিকাভুক্ত। ৫৭টি বিদেশি ও বাকি ১১১টি দেশীয় বা স্থানীয় প্রজাতির পাখি এবার নথিভুক্ত হয়েছে। যেমন ইউরেশিয়ান কার্লিউ, গ্রেট নট, গ্রে প্লোভার, লেসার স্যান্ড প্লোভার, কমন টার্ন প্রভৃতি। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের এক আধিকারিক বলেন, এই মরশুমে বসিরহাট রেঞ্জে সবথেকে বেশি পাখি দেখা গিয়েছে। বাফার জোনেই পাখিরা স্বাচ্ছন্দ্য। শীতের সুন্দরবনে আসা পরিযায়ী পাখি। নিজস্ব চিত্র।