


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: শেষ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকবে তো? আতঙ্কে ঘুম উড়েছে মতুয়াদের। উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়াগড় হিসাবে পরিচিত বনগাঁ মহকুমায় ইতিমধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। বিচারাধীন হয়ে ঝুলে রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার জনের ভোটাধিকার। এঁদের সিংহভাগই মতুয়া সম্প্রদায়ের। এই অবস্থায় বিজেপির ‘মতুয়া-দরদ’ যে কার্যত ব্যুমেরাং হয়ে গিয়েছে, তার প্রমাণও মিলতে শুরু করল। রবিবারই পথে নেমেছেন বনগাঁর মতুয়ারা।
প্রথম পর্বের চূড়ান্ত তালিকায় বনগাঁ মহকুমাতেই প্রায় দু’লক্ষ ভোটারের নাম বাদের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সিংহভাগ ক্ষেত্রে এখানকার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনের কাছে কোনো নথি ছিল না। মহকুমার চারটি বিধানসভা মিলিয়ে বাদ গিয়েছে ৩৬ হাজার ৯০১টি নাম। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই মতুয়া। নাম বাদ যাওয়ার নিরিখে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এই মহকুমার বাগদা
বিধানসভা। এখানে ১৫ হাজার ৩০৩ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে অনেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও আছেন। স্থানীয় বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এখনও আশ্বাস দিচ্ছেন, ‘মতুয়াদের নাম বাদ যাবে না। কাউকেই বাংলাদেশে পাঠানো হবে না।’ পালটা তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘মানুষের জন্য বিজেপি যে ক্ষতিকারক, তা আবার প্রমাণ হল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে বাংলার প্রতি এদের অবিচারের শেষ থাকত না।’ রবিবার গাইঘাটার চাঁদপাড়ায় বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুরের ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ’। প্রায় ৩০ মিনিট অবরোধ চলে। একাধিক নথি নিয়ে অবরোধে শামিল হওয়া অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, ‘আমার পাসপোর্ট রয়েছে। ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্রও আছে। বাবা ও ঠাকুরদার নাম
রয়েছে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়। তবুও আমার নাম বাদ দিয়েছে।’
অন্যান্য জেলার মতুয়া অধ্যুষিত বিধানসভাগুলিতে কী অবস্থা? নদীয়ার কল্যাণী বিধানসভা থেকে বাদ গিয়েছে ২৬ হাজার ৯০৯টি নাম। বিচারাধীন ১২ হাজার ৫৯০ জন। চাকদহ বিধানসভা থেকে বাদ গিয়েছে ১৯,০৮০ জনের নাম। বিচারাধীন রয়েছেন ১৫,১৬৮ জন। হরিণঘাটা বিধানসভায় এই সংখ্যা যথাক্রমে ১২,৩৬৩ ও ১৭,৫০৩। চাকদহের বিজেপি বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ বলেন, ‘যেসব মতুয়ার নাম কাটা গিয়েছে, তার বেশিরভাগটাই তালিকায় এসে যাবে। যাঁদের নাম কাটা যাবে, তাঁরা সিএএর মাধ্যমে পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।’ পালটা রাজ্য যুব তৃণমূলের সহ সভাপতি শুভঙ্কর সিংহ বলেন, ‘দেশের নাগরিক হয়ে সিএএতে আবেদন করতে হবে কেন?’ নদীয়া দক্ষিণে কয়েক হাজার মতুয়াকে বিচারাধীন করা হয়েছে। সীমান্ত লাগোয়া কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার শিবনিবাস এলাকায় ১০৯ থেকে ১১৫ নম্বর বুথের বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশই মতুয়া। এই সাতটি বুথে প্রায় ৭০০ জন বিচারাধীন রয়েছেন। শান্তিপুর বিধানসভায় ১৩,২০০, রানাঘাট উত্তর পশ্চিমে ১৪,৯০০, কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় ১৯,৫০০, রানাঘাট উত্তর-পূর্বে ১৯,৭০০, রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভায় ১৯,১০০, চাকদহ বিধানসভায় ১৫,১০০, কল্যাণী বিধানসভায় ১২,৫০০ ও হরিণঘাটা বিধানসভায় ১৭,৫০০ ভোটারকে বিচারাধীন বলেছে কমিশন।
অসমর্থিত সূত্রের খবর, এর মধ্যে শান্তিপুর বিধানসভায় ৮০৪২, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমে ৬৭০৪, রানাঘাট উত্তর-পূর্বে ৬৪০৪, কৃষ্ণনগর উত্তরে ৩০৭৬, রানাঘাট দক্ষিণে ৭১২৬, চাকদহে ৫৮৬৪, কল্যাণীতে ৯০৩৭ জন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ পড়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মতুয়া মহাসংঘের সহ সভাপতি বাসুদেব যশ বলেন, ‘জেলায় ৫০ হাজারের বেশি মতুয়াকে বিচারাধীন করা হয়েছে। পূর্বস্থলী উত্তর, পূর্বস্থলী দক্ষিণ, জামালপুর, কালনা, মেমারি এবং আউশগ্রাম বিধানসভায় এই সংখ্যা বেশি।’