


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কারও সঙ্গে কোনো তথ্যই শেয়ার করেননি তিনি। কোনো ফোনও আসেনি। অথচ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও লক্ষাধিক টাকা। এয়ারপোর্ট থানা এলাকার এক বাসিন্দা সম্প্রতি এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। গত ১ মার্চ তিনি এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন থানায়। কীভাবে তাঁর টাকা লোপাট হল, তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রতারকদের খোঁজ চলছে। চলছে টাকা উদ্ধারের চেষ্টাও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে দু’টি লেনদেন হয়েছে। সেক্ষেত্রে কোনোভাবে ফোন হ্যাক হয়েছে বলেই অনুমান সাইবার বিশেষজ্ঞদের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হঠাৎই ওই ব্যক্তি লক্ষ্য করেন, তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে দু’টি লেনদেন হয়েছে। ১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা উধাও। তিনি আকাশ থেকে পড়েন! কারণ, তিনি কোনো লেনদেনই করেননি। কাউকে পাসওয়ার্ড, পিন, ওটিপি কিছুই বলেননি। কোনো অপরিচিত ব্যক্তির ফোনও আসেনি তাঁর কাছে। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, ‘এখন নানা কৌশলে প্রতারকরা ফোন হ্যাক করার চেষ্টা করছে, যাতে গ্রাহকের ফোনের অ্যাকসেস প্রতারকদের হাতে চলে যায়। অচেনা ডট এপিকে ফাইল পাঠাচ্ছে তারা। সেই ফাইল ক্লিক করলে ফোন হ্যাক হতে পারে। এছাড়া, বিভিন্ন ধরনের অচেনা লিঙ্ক পাঠাচ্ছে। তাতে ক্লিক করলেও ফোন হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
একবার ফোনের নিয়ন্ত্রণ প্রতারকদের হাতে চলে গেলে তারা ফোনটি যেমন খুশি ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে যায়। প্রায় সবার মোবাইলেই এখন ব্যাংকের অ্যাপ, ইউপিআই ইত্যাদি থাকে। সেক্ষেত্রে ‘পিন’ বদল করে তারা ওই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারে। প্রতারকদের হাতেই ‘অ্যাকসেস’ থাকায় হ্যাক হওয়া ফোনের নতুন ‘পিন’ জেনারেট হলেও তা প্রতারকদের কাছেই যাবে। তবে এক্ষেত্রে কী ঘটেছে, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্যদিকে, কেওয়াইসি আপডেটের নামে আড়াই লক্ষ টাকা খুইয়েছেন সল্টলেকের এক বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত এক ব্যাংককর্মী। প্রতারকরা নিজেদের ব্যাংককর্মী পরিচয় দিয়ে তাঁকে ফোন করে। বিভিন্ন তথ্য হাতিয়ে নেয়। তারপর ক্রেডিট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি বিধাননগর উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।