


সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: আজ, মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের জনসভায় বক্তব্য রাখছেন রাহুল গান্ধী। এদিন সভাস্থলে পৌঁছে বি আর আম্বেদকারের ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দীপা দাশমুন্সি, গোলাম মীররা। সভায় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশজুড়ে বিজেপি-আরএসএস ঘৃণার বাতাবরণ তৈরি করছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা চেষ্টা চলছে। তাঁদের ঘৃণ্য চিন্তা ভাবনার বিরুদ্ধেই আমার এই লড়াই। হিংসা, মারামারি, ভাগাভাগি দিয়ে আসলে কিছুই হয় না। আমার দেশ ঘৃণা শেখায় না, ভালবাসতে শেখায়। এই প্রসঙ্গে উঠে আসে ভারত জোড়ো যাত্রার কথাও।
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগও তোলেন রাহুল। বলেন, ওরা মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশে ভোটচুরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গেও সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, ওনার চেহারাটা দেখেছেন? উনি আমার চোখের চোখ রাখতে পারেন না। আসে এপস্টাইন ফাইলের বিষয়টিও। রাহুলের বিস্ফোরক অভিযোগ, ওই ফাইলে বিজেপির বড় বড় নেতা-মন্ত্রীদের নাম রয়েছে। আর তাতেই না কী বেজায় চাপে পড়ে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সেই জন্যই না কী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায় ওঠেন-বসেন মোদিজি। কারণ কন্ট্রোলারটিই রয়েছে ট্রাম্পের হাতেই। সংসদে এই সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে বলতে শুরু করায় বেরিয়েও গিয়েছিলেন তিনি। আদানির ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। বলেন, দেশকে ধোঁকা দিয়েছে বিজেপি। কার্যত বিক্রি করে দিয়েছে। চুক্তি করেছে মার্কিন মুলুকের সঙ্গে। এর ফল ভুগতে হবে সাধারণ মানুষকেই। দেশের আমজনতার তথ্য মার্কিন মুলুকে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়েও আমেরিকাকে জিজ্ঞাসা না করে কিছুই করতে পারে না কেন্দ্র। ইন্দিরা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরুরা কোনওদিন ওয়াশিংটনের কাছে মাথা নত করেননি। শেষে সভামঞ্চ থেকে রাহুল বলেন, এটা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির কর্মভূমি। তাঁর মৃত্যু না হলেই তিনিই আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতেন। সরকার গড়ত কংগ্রেস। জানা গিয়েছে এদিন সভা শেষের পর মালদহ হয়ে মুর্শিদাবাদে যাবেন রাহুল।