


তেহরান, ৭ এপ্রিল: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই গুরুতর অসুস্থ। অচৈতন্য অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন কোম শহরে। আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলায় তাঁর বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়। তারপরই তিনি দেশের দায়িত্ব নেন। কিন্তু তা নেওয়ার পর এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গিয়েছে। এরমধ্যে কোথাও তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। শুধুমাত্র তাঁর কিছু বিবৃতি টেলিভিশনে পড়ে শোনানো হয়েছে। ফলে তিনি কোথায়? আদৌ সুস্থ রয়েছেন তো? এই ধরণের প্রশ্ন বারবারই সামনে আসছিল। এমনকী গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মোজতবা গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁর চেহারা বিকৃত হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসার জন্য মোজতবাকে মস্কো নিয়ে যাওয়া হয়েছে এমন খবরও সামনে এসেছিল।
এরমধ্যেই মিলল নতুন খবর। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, মোজতবা গুরুতর অসুস্থ। বর্তমানে তিনি তেহরান থেকে দক্ষিণে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে কোমে শহরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমেরিকা ও ইজরায়েলের গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি অচৈতন্য অবস্থায় রয়েছেন। শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। যা রীতিমতো গুরুতর। এর ফলে তিনি দেশের কোনওরকম প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বই পালন করতে পারছেন না বলেই জানা যাচ্ছে। এই বিষয়টি না কী ইজরায়েল এবং আমেরিকা বহু আগে থেকেই জানত। এবার উপসাগরীয় এলাকার বন্ধু দেশগুলির সঙ্গেও তাঁরা এই তথ্য ভাগ করে নিয়েছেন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, কোম শহরেই আলি খামেনেইয়ের দেহকে সমাহিত করার প্রস্তুতি চলছে। হামলায় মাসখানেক আগেই তাঁর মৃত্যু হলেও এখনও তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়নি। সেই কাজই করা হচ্ছে ধর্মীয় শহর হিসেবে পরিচিত কোম শহরে। সেখানে একটি বড় সমাধি তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। খামেনেইয়ের কবরের পাশে একাধিক দেহ কবর দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও সেখানেই সমাধিস্থ করা হতে পারে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনওরকম বক্তব্য রাখেনি ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু প্রশাসন। অন্যদিকে, তেহরানও মোজতবাকে নিয়ে কোনওরকম কিছু জানায়নি।