


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: এসআইআর পর্বে শুনানি নিয়ে হয়রানি চলছেই। শুক্রবার ফের অমানবিক দৃশ্য দেখল সিঙ্গুর। এক প্রৌঢ়া তাঁর বিশেষভাবে সক্ষম ছেলেকে নিয়ে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। সিঙ্গুর-২ পঞ্চায়েতের ১১৩ নম্বর বুথের ভোটার সাহেরুন বিবি। তাঁর ছেলে আনোয়ার হোসেন বিশেষভাবে সক্ষম। ছেলে প্রায় এক কিমির বেশি ট্রাই সাইকেল চালিয়ে শুনানিতে এসেছেন। মা ও ছেলে দু’জনকেই নোটিস ধরিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে, রায়দিঘি বিধানসভার অন্তর্গত ২ নম্বর স্টেডিয়াম মাঠে শুনানি কেন্দ্রের দীর্ঘ লাইনে তিনমাসের শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে মা অপর্ণা হালদারকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। রোদ, ভিড় এবং দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে শিশুকে সামলাতে গিয়ে কার্যত অসহায় অবস্থায় পড়েন ওই মহিলা। তাঁর অভিযোগ, শিশুসন্তানের বিষয়টি বিবেচনা না করে নোটিস পাঠানো হয়েছে, যা অমানবিক। রায়দিঘি বিধানসভার বিধায়ক অলক জলদাতা শুনানি কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। বিধায়কের উদ্যোগে অপর্ণার শুনানির প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও হয়। এদিকে, এসআইআরে মানুষের হয়রানির প্রতিবাদে জামতলা বাজারে সিপিআইএমের পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলে। রাস্তায় টায়ার জ্বালানো হয়। ছিলেন সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক রামশঙ্কর হালদার।
পানিহাটি পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে শুনানি কেন্দ্রে উত্তেজনা তৈরি হয় এদিন। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, কমিশনের প্রতিনিধিরা তথ্য জমা নিলেও স্ট্যাম্প মেরে রিসিভড কপি দিচ্ছে না। এই অভিযোগে পানশিলা দেশবন্ধু নগর বিদ্যামন্দিরের শুনানি কেন্দ্রে স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। শুনানি কেন্দ্রের ভিতর বিক্ষোভের ফলে ইআরও প্রথমে চলে যান। ঘণ্টা দুয়েক পর ইআরও স্ট্যাম্প নিয়ে আসেন। রসিদে স্ট্যাম্প ও সই করে দেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।