


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও কৃষ্ণনগর: ‘অপ্রকৃতস্থ’ অবস্থায় হাসপাতালে ঘুরে বেড়ানো, জেলা হাসপাতালের সুপারকে নিগ্রহ করানো, দুর্ব্যবহার সহ গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ উঠেছিল। ভাইরাল হয়েছিল ভিডিও। এরপরই নদীয়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তথা সিএমওএইচ ডাঃ জ্যোতিষচন্দ্র দাসকে পদ থেকে সরিয়ে ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হল। এই ঘটনায় হইচই পড়েছে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনে।
শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ নদীয়ার সিএমওএইচ জ্যোতিষচন্দ্র দাস শক্তিনগর জেলা হাসপাতাল সুপারকে ফোন করে জানান যে, তিনি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর জ্যোতিষবাবু এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সুপারের অফিসে ঢোকেন। সুপারের অভিযোগ, অফিসে ঢুকেই ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আচমকা তাঁর উপর চড়াও হয়। সিএমওএইচ’এর সামনেই তাঁকে মারধর করতে শুরু করে। হতচকিত হয়ে যান সুপার। দুপুরে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঠিক আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার জেলা হাসপাতালে ঢুকে অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় কর্মীদের সঙ্গে দুব্যর্বহার করবার অভিযোগ উঠেছিল সিএমওএইচ’এর বিরুদ্ধে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাকওয়ানা মিতকুমার সঞ্জয় কুমার বলেন, কোতোয়ালি থানায় নদীয়া জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ সরকারকে হেনস্তার অভিযোগ দায়ের হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তদন্ত চলছে। সুপার জয়ন্তবাবু বলেন, বিনা কারণে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আমায় চেম্বারে ঢুকে মারধর করে। তার মোবাইলটি আমরা পেয়েছি। থানায় জমা করেছি। সেই ব্যক্তির সঙ্গে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ছিলেন। পুলিসে অভিযোগ জানিয়েছি। বিদায়ী সিএমওএইচ জ্যোতিষচন্দ্র দাস বলেন, বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গিয়েছিলাম। শুক্রবার যাইনি। সর্বৈব মিথ্যা সব অভিযোগ করা হচ্ছে। আর মদ্যপান করা বা অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় থাকা নিয়ে কই কেউ তো কোনও অভিযোগ করেননি। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা বাদেই সিএমওএইচকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। সূত্রের খবর, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (৩) রঞ্জিত দাসকে সিএমওএইচ-এর দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ওঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বিদায়ী সিএমওএইচ-এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের একটি হল, বৃহস্পতিবার তিনি অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় প্রথমে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও প্যাথলজি ল্যাবে ঘুরে বেড়ান এবং কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও তাঁদের গালিগালাজ করেন। সেই সময়ে তাঁর চলাফেরায় স্পষ্ট ছিল অসংলগ্নতার ছাপ। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে শহরের বেশ কয়েকটি পরিচিত দোকানেও যান এবং সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে অসংলগ্ন ও অভব্য আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, সুপারের সঙ্গে গণ্ডগোলের সূত্রপাত আজকের নয়। টেন্ডার সংক্রান্ত একটি ব্যাপার নিয়েও দু’জনের মধ্যে গোলমাল চলছিল।