


শ্রীনগর: দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর থেকে জোরকদমে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেইসূত্রে ফরিদাবাদ থেকে বাজেয়াপ্ত বিস্ফোরক আনা হয়েছিল নওগাঁও থানায়। দিনরাত সমানে কাজ করছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। রাজধানীতে বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল থেকে উমর নবির কালো রঙের স্পোর্টস শু ও মেরুন শার্টের নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। পাশাপাশি বেশ কিছু সামগ্রীর প্যাকিংয়ের কাজ চলছিল। এর জেরেই শুক্রবার থানায় ডাক পড়ে স্থানীয় দর্জি মহম্মদ শাফি পারের। পুলিশবাবুদের কাজে সাহায্য করলে ভালো পারিশ্রমিক মিলবে। তাই তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন মহম্মদ। আশপাশে তিন খুদে সন্তান। উঠোনে দাঁড়িয়ে স্ত্রী বলেন - তাড়াতাড়ি ফিরে এসো। কিন্তু আর ফেরা হল না। রাতে বিস্ফোরণে ছারখার থানা। শনিবার ভোরে মিলল মৃত্যু সংবাদ। এদিন সকালে থানায় পৌঁছন মহম্মদ। দুপুরে জুম্মাবারের নামাজ পড়তে বাড়ি ফেরেন। পরে খাওয়া-দাওয়া সেরে ফের থানায়। সন্ধ্যায় শেষবার বাড়ি এসেছিলেন। বাইরে বেশ ঠান্ডা। রাতের খাবার খেয়ে, জ্যাকেটটা পরে থানার উদ্দেশে রওনা দেন। গভীর রাত। এমন সময় বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা মহম্মদের খোঁজ শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ জানায়, থানায় বিস্ফোরণে জখম হয়েছেন দর্জি। ভোরের দিকে খবর আসে, মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের কেউ এসে যেন দেহটি শনাক্ত করে যায়। কথাগুলো কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তাঁর স্ত্রী। ততক্ষণে সকালের আলো ফুটেছে। উপত্যকার বাতাসে তখন কালো ধোঁয়া, বিস্ফোরণের ঠান্ডা ছাই আর মহম্মদের স্ত্রী-সন্তানদের কান্না।