


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: এ এক সর্বকালীন রেকর্ড! এক বছরে বাংলার প্রায় এক হাজার সরকারি হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্র পেল জাতীয় শংসাপত্র। তাও মিলেছে নিন্দুকদের মুখে ঝামা ঘষে মোদি সরকারের কাছ থেকেই। গত বছর (২০২৩ সালের হিসেব অনুযায়ী) বাংলার ২৮৪টি সরকারি হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্র পেয়েছিল ন্যাশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স স্ট্যান্ডার্ডস (এনকোয়াস) শংসাপত্র। তাতেই বাংলা দেশে শীর্ষস্থান অধিকার করেছিল। ২০২৪ সালের হিসেব সদ্য জানতে পেরেছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের শীর্ষকর্তারা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নিজেকেই ছাপিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এবার সবশুদ্ধ ৯৯৬টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্মান আদায় করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘অভাবনীয় সাফল্য বললে কম বলা হবে। অজস্র খুঁটিনাটি বিষয়ে দেখে তারপর এনকোয়াস শংসাপত্র দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্মী-আধিকারিক সহ সবারই এই স্বীকৃতি প্রাপ্য।’ শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে সবার উপরে আছে কোচবিহার। এই জেলার ঝুলিতে সার্টিফিকেটের সংখ্যা ১১৪। হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ দিনাজপুর, হাওড়া, পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, জলপাইগুড়ি, পূর্ব মেদিনীপুর, আলিপুরদুয়ার, রামপুরহাট ও বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার সার্টিফিকেটের সংখ্যা চল্লিশের ওপর।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ‘এনকোয়াস’ প্রকল্পের সূচনা হয়। ২০১৭-২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলার ১২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এই শংসাপত্র পেয়েছিল। ২০২২ সালে ১৯টি শংসাপত্র পায় বাংলা। এরপর ২০২৩ সালে ২৮৪টি এবং ২০২৪ সালে ৯৯৬টি শংসাপত্র এসেছে এ রাজ্যে। ফলে এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সার্টিফায়েড’ বাংলার হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা মোট ১৩০১। এর মধ্যে মেডিক্যাল কলেজ ১৭টি, জেলা হাসপাতাল ৪টি, মহকুমা হাসপাতাল ২৪টি, গ্রামীণ হাসপাতাল ১৪টি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৬টি, আরবান প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৬৯টি এবং সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র ১১৬৭টি। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে শংসাপত্র প্রদান করেছে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই শংসাপত্রের প্রাপক উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র পিছু প্রতি বছর ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা, জেলা হাসপাতালগুলির জন্য এক কোটি টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল মোদি সরকার। কিন্তু জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মতো এই খাতের পুরস্কার-মূল্য বাবদ কোটি কোটি টাকা আজও মেটায়নি কেন্দ্র।
এই শংসাপত্র দেওয়ার আগে পরিদর্শনের সময় মূলত কোন কোন বিষয় লক্ষ করেন পরিদর্শকরা? প্রথমত, যে স্তরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেমন পরিষেবা পাওয়া উচিত, তা সব আছে কি না খতিয়ে দেখা হয়। সেই সঙ্গে রোগীর অধিকার মান্যতা পাচ্ছে কি না, ওষুধ, যন্ত্রপাতি সঠিক পরিমাণ ও গুণমানের আছে কি না, আউটসোর্স সার্ভিস ঠিকমতো কাজ করছে কি না অর্থাৎ হাসপাতালের সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা, ডায়েট ইত্যাদি দেখা হয়। প্রেসক্রিপশন, ডিসচার্জ, সার্জারি নোট ইত্যাদি ঠিকভাবে লেখা হচ্ছে কি না, খতিয়ে দেখা হয় তাও। সংক্রমণ আটকানোর যথাযথ ব্যবস্থা, চিকিৎসা বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা, পরিষেবা পেয়ে রোগীর সন্তুষ্টি কতটা, পরিষেবার বিভিন্ন সূচক কেমন ইত্যাদি নানা বিষয় দেখা হয়। এসবের ভিত্তিতে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ নম্বর পেলে তবেই মেলে সার্টিফিকেট।