


কাঠমাণ্ডু: ক্ষমতায় বসেই নেপালে পরিবর্তনের ঝড় তুলেছেন সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। শপথগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে নতুন করে গড়ে তুলতে ১০০ দফার কর্মসূচি নিয়েছেন এই র্যাপার-রাজনীতিবিদ। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাস থেকে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ভারতের সঙ্গে সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তাও দিয়েছেন বালেন। প্রধানমন্ত্রী পদে বসে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বালেন শাহ। জানিয়েছেন, তিনি ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে রাজনৈতিক সংগঠনের বদলে ৯০ দিনের মধ্যে ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ বা ‘ভয়েস অফ স্টুডেন্টস’-এর মতো অরাজনৈতিক সংগঠন তৈরির কথা বলা হয়েছে। যদিও বালেন্দ্রর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সরকারের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলির ছাত্র সংগঠনগুলির কারণে ক্যাম্পাসে দীর্ঘ সময় ধরে হিংসা, ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটে। শিক্ষকরা আক্রান্ত হন। তার ফলে শিক্ষার পরিবেশও নষ্ট হয়। মুখ্য হয়ে ওঠে রাজনীতি। আর সেই কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনীতিমুক্ত করা প্রয়োজন। যদিও সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদেরও রাজনৈতিক দলীয় সম্পর্ক রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বালেন্দ্র শাহের সমর্থকদের মতে, এতে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও গতি আসবে। যদিও সমালোচকদের দাবি, এর ফলে কর্মীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং ভিন্নমতও গুরুত্ব হারাবে। একাধিক সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন সরকার। জেন-জি আন্দোলনে বলপ্রয়োগের অভিযোগে গত শনিবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী রমেশ লেখককেও আটক করা হয়েছে। এছাড়া, এক নাবালিকা গৃহকর্মীর উপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল বিধায়ক রেখা শর্মার বিরুদ্ধে। তাঁকেও গত রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও জেন-জি আন্দোলনে নিহত ২৭ জন ছাত্রের পরিবারের জন্য সরকারি চাকরির ঘোষণা করেছে বালেন শাহ সরকার। প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।