


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সেই মহাভারতের সময় থেকেই তার উল্লেখ রয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে প্রাণীটি। কিন্তু লোভ বড় বিষম বস্তু! তাই বন্যপ্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চোরাশিকার হওয়া প্রাণীর তালিকায় রয়েছে এটি। ছোট্ট এই প্রাণীটি হল বেজি (মঙ্গুজ)। ভারতে ছ’ধরনের বেজি পাওয়া যায়। স্মল ইন্ডিয়ান মঙ্গুজ, ইন্ডিয়া গ্রে মঙ্গুজ, ইন্ডিয়ান ব্রাউন মঙ্গুজ, রুডি মঙ্গুজ, ক্র্যাব ইটিং মঙ্গুজ এবং স্ট্রাইপড নেক মঙ্গুজ। একসময় এ দেশে অসংখ্য থাকলেও এখন শিডিউল-১ অন্তর্ভুক্ত এটি। অর্থাৎ, সবচেয়ে বেশি সংরক্ষণ প্রয়োজন এই প্রাণীর।
কেন এভাবে বিপন্ন হয়ে গেল প্রাণীটি? জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার প্রকাশিত একটি তথ্য বলছে, প্রতি বছর এক লক্ষ বেজি শিকার হয় ভারতে। কারণ, এই বেজির লোমই হচ্ছে মহার্ঘ তুলির প্রধান উপকরণ। মোটামুটি এক কেজি ব্যবহারযোগ্য লোম পেতে ৫০টি বেজি মারা হয়। এর সঙ্গে জুড়ে রয়েছে নিবিড় পাচারচক্র। কলকাতাও তা অংশীদার। দেশের মধ্যে মূল চোরাচালানের রুটটি উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ু দিয়ে গিয়েছে। আর আন্তর্জাতিক চোরাচালানের রুট দিল্লি, মুম্বই এবং কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত। ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়েই পাচার হয়ে যায় বেজির এই মহামূল্যবান লোম বা তা থেকে তৈরি তুলি। পৌঁছয় মধ্যপ্রাচ্যে। সেখান থেকে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে সেগুলি। এই চোরাচালান আটকাতে পুলিশ-প্রশাসন বা এজেন্সিগুলির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এগুলির চিহ্নিতকরণ। নয়া পদ্ধতিতে এমনভাবে লোমগুলির ‘প্রসেসিং’ হয়, সেগুলিতে আর কোনও নিউক্লিয়ার ডিএনএ থাকে না। তাই সেগুলি জৈব নাকি কৃত্রিম তন্তু, বোঝা প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে যায়। এতটাই কেমিকেল ব্যবহার করা হয় যে মাইট্রোকনড্রিয়াল ডিএনএ-ও সেভাবে মেলে না। এখানেই পথ দেখিয়েছে জেডএসআই। তাদের সংগ্রহালয়ের নমুনা থেকেই বেজির লোম নিয়ে সেগুলি চিহ্নিত করার নয়া পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে তারা। লোমের গঠনগত বৈশিষ্ট্য শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ফেলে সেগুলি কোন প্রজাতির বেজির, তা বলে দিতে পারছেন বিজ্ঞানীরা। ‘ট্রাইকোট্যাক্সোনমি’ নামক এই পদ্ধতিতে দ্রুত খুব কম খরচে বেজির লোম থেকে তার প্রজাতি চিহ্নিত করা সম্ভব। আর তা চিহ্নিত হয়ে গেলে সহজেই জানা যেতে পারে বেজি পাচারের রুট। জেডএসআই অধিকর্তা ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিভিন্ন এজেন্সিকে চোরাচালান রোধে এই পদ্ধতিতে আমরা সাহায্য করছি। এতে আমাদের ওয়াইল্ডলাইফ ফরেনসিক সক্ষমতাও বাড়ছে। তা দিয়েও আমরা দেশের জীববৈচিত্র্যকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে সাহায্য করে চলেছি।’
আরও একটি সুখবর হল, অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে একটি নয়া প্রজাতির স্লেন্ডার গেকো বা গিরগিটি আবিষ্কার করেছেন জেডএসআইয়ের বিজ্ঞানীরা। তিরুমালা হিল রেঞ্জের শেষাচলম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে হেমিফিলোড্যাকটাইলাস গোত্রের গিরগিটিটির সন্ধান পেয়েছেন তাঁরা। এটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘হেমিফিলোড্যাকটাইলাস বেঙ্কটাদ্রী’। এই প্রজাতির অন্য গিরগিটিগুলির সঙ্গে এটির ৯.৭ শতাংশ থেকে ১২.৯ শতাংশ ফারাক পাওয়া গিয়েছে।