


অমর মিত্র
পল্টনের নাম গোলাম কিব্রিয়া। আর নান্টু হল সুজিত বিশ্বাস। বিশ্বাস লন্ড্রির নান্টু। লন্ড্রি উঠে গেছে। ভাড়াটে নান্টুকে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করেছিল প্রমোটার। এখন সেই লন্ড্রির বাড়ি মস্ত বহুতল। নান্টুর কাছে জামাকাপড় আসে অনেক। ওই এক বাড়ির দশ ফ্ল্যাটের জামাকাপড় ইস্তিরি করেই যেন চলে যায়। তবে শীতকালে জামাকাপড়, জিন্স, শালোয়ার, কামিজ আসে কম। সোয়েটারের নীচে তেমন ইস্তিরি দরকার হয় না। টি শার্ট এসেও নান্টুর বাজারে থাবা মেরেছে। গুমটি চলছে। একজন বিহারি কারিগর লোহার ইস্তিরি টানে, ডাকু গুমটির পাশে প্লাস্টিকের টুলে বসে হিসেব রাখে। আট টাকার চার টাকা পাবে কারিগর বাকি চার সে। নান্টু থাকে শহিদ কলোনি। সেখান থেকে হেঁটে আসে বেলগাছিয়া। এগারোটার পর গুমটি বন্ধ। তখন সে দালালি করে বেড়ায়। ভাড়ার ফ্ল্যাট, বিক্রির ফ্ল্যাট খুঁজে বেড়ায়। একটা লাগাতে পারলে টু পারসেন্ট না হোক ওয়ান পারসেন্ট কী তার অর্ধেক পাবে। এলাকায় এলাকায় ভাগ আছে। যে এলাকায় ফ্ল্যাট পাবে, সেখানকার ব্রোকারকে বাদ দিয়ে কাজ হবে না। সে-ই তো খোঁজ দেবে। পল্টন হল ইলেকট্রিক মিস্তিরি। তার একটা ব্যাগ আছে। তার ভিতরে যন্ত্রপাতি। সকাল থেকে ফোনের জন্য বসে বসে থাকে। এখন দোকান লাগে না, ফোনই দোকান। এলাকার সব বাড়িতে নম্বর দিয়ে সে নান্টুর গুমটির সামনে আর একটা টুলে বসে থাকে। বসে আছে। তিন দিন ধরে হতাশ। হতাশার কারণ চাচা অভিজিৎ হালদার। লোকটা সেদিন এসেছিল ভোর সকালে। চলেও গেল। তারা যা ভাবছে তা হল না। কী আজব আদমি। ঘরে বিল্লি ঢুকে বসে আছে কি না দেখতে এসেছিল। আজব আদমিরা কত কী করে? একটা বাড়ি মানে ফ্ল্যাটে থাকে, আর একটা দুটোয় চাবি দেওয়া থাকে। অভিজিৎ হালদার সেই দলে ঢুকে গেল। নান্টু জিজ্ঞেস করল, তোকে তো বলে গেছে, ইলেকট্রিকের কাজে ডাকবে?
—হামাকে না ডাকলে কী হবে নান্টু, হামি বলতে চাই অন্য কথা। কথাটা নান্টু জানে। তার কথাও ওইটা। কিন্তু সে বলেনি পল্টনকে। একদিন চলে যাবে বি-টাউন। কাকিমাকে বলতে হবে। কাকিমার মেয়ে মন্দাক্রান্তাকে বলতে হবে। তারা মত করলে দাদা কিছু বলতে পারবে না। এত বড়ো ফ্ল্যাট এমনি পড়ে থাকবে স্যার। ব্যবহার না করলে নষ্ট হয়ে যাবে। ভূতুড়ে বাড়ি হয়ে যাবে। আমাকে চাবিটা দিন, আমি শহিদ কলোনির ভাড়া বস্তিবাড়ি ছেড়ে আসব। আপনার বউমার খুব শখ এমন একটি বাড়িতে থাকে। কলঘর আলাদা, টয়লেট আলাদা, কিচেন আছে রান্নার জন্য, বসার জায়গা আছে, লিভিং, খাওয়ার জায়গা আছে ডাইনিং, আমার কাছে শুনে শুনে একটা টু বি এইচ কে, থ্রি বি এইচ কে ফ্ল্যাটে কী কী থাকে সব তার মুখস্থ হয়ে গেছে। একটু হাত পা ছড়িয়ে থাকতে চায়। নান্টুর মোবাইলে অনেক ফ্ল্যাটের ভিডিও আছে। ছবি আছে। দরকার হয় খরিদ্দারকে দেখানোর জন্য। সেই সব ছবি আর ভিডিও তার বউয়ের মুখস্থ। একটা ব্যালকনির খুব শখ। ব্যালকনিতে চেয়ার পেতে চায়ের কাপ হাতে বসে থাকবে। নান্টুরও অমন শখ আছে। অভিজিৎ হালদারের ফ্ল্যাট পুরানো ডিজাইনের। তিনটি বড়ো বড়ো ঘর। অনেক উঁচু সিলিং। একটা ঘরে বসা এবং খাওয়া হত। বাকি সব ঠিক আছে। তবে টয়লেট একটা। দুটো নয়, কিন্তু স্নান ঘর আর পায়খানা আলাদা। এইটা টু টয়লেট বলা যেতে পারে। ২৪ ঘণ্টা জল। চৌবাচ্চা। পল্টন গিজার লাগিয়েছিল। এসির লাইন করে দিয়েছিল। এসিতে ঘুমানো দারুণ ব্যাপার। পল্টন বলল, চাচার মতলব কী? মতলব আবার কী, নিজের ফ্ল্যাট, চাবি দিয়ে আর একটা নিজের ফ্ল্যাটে চলে গেছে।
—এইটা নিজের ফ্ল্যাট, ভাড়া না? পল্টন জিজ্ঞেস করল।
—ভাড়া না নিজের ফ্ল্যাট অত জানি না, কিন্তু দাদার ফ্ল্যাট, কাকিমা আর মন্দাক্রান্তার ফ্ল্যাট, এখন দাদার পয়সা হয়েছে, সাইরেন বাজা সিটিতে চলে গেছে, পয়সা থাকলে সব হয়।
—ওই টাউনে সাইরেন বাজে? নান্টু সতর্ক হল, মনে প্রশ্ন জাগল, পল্টনের মতলবটা কী, অত খোঁজ নিচ্ছে কেন? পল্টনের ফোন বাজল। ডাক এসেছে আগরওয়াল কোঠি থেকে। সে বলল, টায়েম লাগবে কাকা, কাজে আছি। একটু থেমে বলল, আধা ঘণ্টায় হবে না, এক ঘণ্টা লেগে যাবে। তারপর বলল, হামি টেরাই করছি, তবে ওই টায়েম ধরে রাখো কাকা। ফোন বন্ধ হতে নান্টু জিজ্ঞেস করল, তুই তো বসে আছিস। খৈনি টিপতে টিপতে পল্টন বলল, আরে সঙ্গে সঙ্গে চলে গেলে দর পড়ে যায়, বিজিনেসের নিয়ম আছে। যদি মিস্তিরি খুঁজতে বেরিয়ে তোকে দেখে? পল্টন বলল, হামি জানি আগরওয়ালজিকে, টাকার গরমে ল্যাদ খায়, মিস্তিরি বলতে হামাকে চিনে, হামি পল্টন, হামাকে ডেকেছিল বড়োবাজারের কাপড় গদিতে, বহুত খারাব লাইন হামি ঠিক করিয়ে দিইছি। নান্টু চুপ করে থাকে। তার বিজনেসে দেরি করলে খরিদ্দার রাগারাগি করবে, নান্টু বলে গেলাম এক ঘণ্টার ভিতরে চাই, তুমি এখনও ফেলে রেখেছ। নান্টু তখন জোরসে মারো, ইস্তিরি মারো... তার কারিগরকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু পল্টনের বিজনেস তেমন নয়। সকলে হা পিত্যেশ করে রাস্তায় চেয়ে থাকে। পল্টন চলল। একটু হেলেদুলে চলতে লাগল। নান্টুকে তার কারিগর বলল— খতরনাক আছে, বলে দিব আগরওয়ালজিকে।
—বলে তোর কী হবে।
—মিথ্যা বলে দেরি করছে, এ কি ঠিক হচ্ছে?
—ওর বিজনেস ও বুঝবে, লোকে মিস্তিরিকে তেল মারে, ইস্তিরিকে না, অনেক জামা কাপড় আছে লোকের, ইস্তিরি না হলে অন্যটা পরবে, পল্টন মিস্তিরির দর খুব।
—মিস্তিরি! মিস্তিরি টাইটেল হল? কারিগর ঠান্ডা হয়ে আসা ইস্তিরি হাতে ধরে বলল।
—হ্যাঁ হল, এই দেখ না, মোড়ের মাথায় ডাঃ এ কে মিস্তিরির চেম্বার, ঢুকলেই লক্ষ্মী গণেশ, কিঁউ রে ? ভারী ইস্তিরি চুলো থেকে তুলে কারিগর রামজি বলল, দেখ নান্টু, তুমি না জেনে চুপ করে থাকতে সে এক রকম, কিন্তু জেনে চুপ করে আছ, এইটা ঠিক না। নান্টু হেসে বলল, তুই খোঁজ নে, সবাই সব জানে, আরে ইলেকট্রিক সারাবে কে, নিজেরা তো পারবে না, পল্টন মিস্তিরি ছাড়া গতি নেই, ভোটার লিস্টে নাম নেই, কিন্তু তাতে মিস্তিরির রেট কি কম হবে? ওর নাম আবার হবে, ও এবার পল্টন মিস্তিরি হবে, বাবার নাম নিউটন মিস্তিরি।
—নিউ টৌন, বড়িয়া সিটি, উস্কি পিতাজি নিউ টৌন? কারিগর রামজি মাথা নাড়তে লাগল, শেষে বলল, তার গয়া জিলায় এসব চলবে না, এখেনে দেখি পরামানিক ভি ঠিক নেহি, মিস্তিরি হো গিয়া, গয়া জিলায় এইসা নেহি চলতা। দুই গুমটি বন্ধ হয়েছে। রামজি বিদায় নিয়েছে। নান্টু এদিক সেদিক দেখে ফোন লাগাল। প্রথমে বেজে গেল, তারপর কেউ ধরল। কাকিমা। মন্দাক্রান্তার মা। মেয়ের পিছনে লেগেছিল ক’টা ছেলে। তারা সব পার্টি করে, সেই জন্যই সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা চলে গেছে। বি টাউনে তাদের ফ্ল্যাট আছে না ভাড়া নিয়েছে অত কিছু জানে না নান্টু। বলল, কাকিমা যাওয়ার আগে আমাকে বলতে হত, থানায় আমার লাইন আছে, মেজোবাবু আমাকে ভালোবাসে... কথা থামিয়ে মন্দাক্রান্তার মা নন্দিনী বলল, কী সব বলছ, থানায় কী হবে? নান্টু বলল, কাকিমা, আমরা পাড়ায় থাকতে আপনারা চলে যাবেন? নন্দিনী বলল, এই তো তোমার দাদা এসে গেছে, কথা বল। নান্টু বলল, দাদা, আজ একটু যাব, আপনার কাছে। আজ, আচ্ছা এসো। বলে অভিজিৎ বুঝিয়ে দিতে লাগল তার বাসস্থানটিকে। নান্টু লোকেশন চাইল, তাও পেয়ে গেল। কিন্তু পায়ে হাঁটা আদমির কি গুগল লোকেশন দিয়ে কাজ হবে? না হোক থাকল তার মোবাইলে। সে কি একদিন বাইক চড়ে যেতে পারবে না? মনে মনে নানা রকম কথা ভাঁজতে লাগল নান্টু। বি-টাউন খুব সুন্দর টাউন। এদিক থেকে কত লোক ওদিকে চলে গেছে। ওই দিকে ব্রোকারি ভালো হয়। এক একজন ব্রোকারেরই বড়ো ফ্ল্যাট আছে। নান্টু শুনেছে। সে অভিজিৎ হালদারকে ধরে বি-টাউনের ব্রোকার হবে। বউয়ের খুব সাধ বি-টাউন দেখে। ইকো পার্ক যায়। সারাদিন বি-টাউনে ঘুরে বেড়ায় তারা, এমনি তার বউ নিয়তির বাসনা। নান্টু বাড়ি গিয়ে ভাতজল মুখে দিয়ে চলল বি-টাউন। বাস ধরে নামবে ত্রিনয়ণী মোড়ে। সেখানে দাঁড়াবে। স্যার এসে নিয়ে যাবে। নান্টু অনেকদিন বাদে বি-টাউন এল। একবার এসেছিল দীপকদার ফ্রিজ আলমারি পৌঁছে দিতে লরিতে করে। আর একবার দীপকদার ছেলের অন্নপ্রাশনে। তারপর আসেনি। দীপকদাও আর ফোন ধরে না। নান্টু নেমে দেখল মূর্তিমান পল্টন। জরি লাগানো পাঞ্জাবি, আর জিন্স। চোখে সানগ্লাস। তাকে দেখে অবাক। নান্টুও অবাক। পল্টন বলল, ইলেকট্রিক সারাতে হবে, লাইন করতে হবে, অনেক কাম, চাচা ডাকল। নান্টু বলল, না বলল না, ভাবল, ভোটার লিস্টে নাম বাদ গেছে তো, তুই কাম করতে পারবি, তোর পারমিশন আছে? পল্টনও বলল, বলল না, ভাবল, আরে নান্টু, তুই হামাকে বলতি পারতি, তোর নাম তো বিবেচনা আছে, সিল মারা আছে, তুই যদি ডিলিট হয়ে যাস, তখন কী হবে রে কালিয়া? গাড়ি থেকে নামল অভিজিৎ হালদার। প্যান্ট হাওয়াই শার্ট আর চশমা, কানে মোবাইল, ইঙ্গিতে পিছু পিছু আসতে বলল। তারা চলল স্যারের পিছু পিছু।
—এখানে ইস্তিরির গুমটি আছে?
—হ্যাঁ, ব্লকে ব্লকে আছে, সারাদিন কাম চলে, পুরা বারো ঘণ্টা। পল্টন বলল। সে ইলেকট্রিক মিস্তিরি, সে সব জানে। নান্টু চুপ করে গেল। তারা গাছের ছায়ার উপর দিয়ে হাঁটছিল। দু’জনেই দেখল, ইয়েস ব্যাংক।
—ইয়েস ব্যাংক, ইয়েস, নান্টু বলল, এই ব্যাংকে আপনার টাকা আছে স্যার। পল্টন বলল, আরে কী বলিস, চাচার থাকবে না তোর থাকবে? নান্টু দেখল, ক্যাটরিনা ব্যাংক অব গোয়া। হাঁ করে দেখতে লাগল। মেয়েটাকে নুসরতের মতো দেখতে। ফাইন। সে বলল, চাচার টাকা হিঁয়া ভি হায়, গোয়া গেল চাচা সেবার, গেলে না চাচা? অভিজিৎ উত্তর দিল না। তখন নান্টু বলল, আরে পল্টন কিতনা ব্যাংক হায়রে এখেনে, ব্যাংক অব চেন্নাই। এবার অভিজিৎ ফোনের কথা শেষ করে দিয়ে বলল, ফুড ব্যাংক অব চেন্নাই, রেস্টুরেন্ট। নান্টু অবাক হয়ে দেখল। মাদ্রাজি খানার দোকান। ধোসা ইডলি, সম্বর, বড়া...। পল্টন বলল, ইয়ে ভেজ খানা, লেকিন আচ্ছা হায়। নান্টু ভাবল, কী কাজে এল আর কী কাজ হচ্ছে। হচ্ছে না কিছুই। পল্টনের সামনে তো বলতে পারবে না, চাবিটা দেবেন স্যার। পল্টন বলল, ওই দেখ নান্টুভাই, কিতনা বড়ো খানাঘর হায়। বড়ো রেস্তরাঁ। নান্টুর বউ নিয়তি এমন দেখেনি। পল্টন বলল, শাদির পর নুসরতকে নিয়ে এই খানাঘর রেস্টুরেন্টে আসবে। নান্টু বলল, ইয়েস ব্যাংকে তেরে রুপিয়া হায়? পল্টন বলল, ইয়েস রাখেঙ্গে। নান্টু বলল, আমিও রাখব, এই ব্যাংক, সেই ব্যাংক, দশ ব্যাংকে টাকা রাখব, চেন্নাই ব্যাংকেও রাখব। পল্টন বলল, হামি ভি রাখব, নুসরতের নামে অ্যাকাউন্ট, সব ব্যাংকে রুপয়া থাকবে। নান্টুর মনে হল, মাদ্রাজি দোকানে স্যার নিয়ে যাক। কিন্তু স্যার হাঁটছে ফোনে কথা বলতে বলতে। আচমকা নান্টুর খিদে পেয়ে গেল। আরে বাড়িটা কোথায়? কতদূরে? হাঁটিয়ে মারছে কেন? সে ডাকল, স্যার, মাদ্রাজি খানা কেমন, ইডলি, ধোসা? অবাক পল্টন বলল, তুই খাসনি নান্টু ভাই? নান্টু বলল, কেন খাব না, কিন্তু ভুলে যাই কেমন খেতে। টেস? পল্টন গম্ভীর হয়ে মাথা নাড়ল, হাঁ, হামি ভি টেস ভুলে গেছি। তখন অভিজিৎ হালদার কান থেকে ফোন নামিয়ে বলল, বল এবার নান্টু, পল্টন, কী দরকার। পল্টন বুদ্ধিমানের মতো বলল, কোঠিতে চলুন চাচা, ঘরে বসে কন্টাক হোবে।
—বাড়ি যেতে দেরি হবে, মেয়ে আর মা বেরিয়েছে, ফিরতে সন্ধে পার, আমি চাবি নিয়ে বেরইনি। অভিজিৎ হালদার বলল।
—আপনি এতক্ষণ কী করবেন? নান্টু জিজ্ঞেস করল। —বন্ধুর বাড়ি যাব সি জে ব্লকে, তার আগে হাঁটি, মর্নিং ওয়াক হয়নি আজ, এক ঘণ্টা হাঁটতে হবে। পল্টন তখন বলল, চাচা, আমি আর নুসরত, নান্টু আউর নিয়তি বহিন, আপনি চাবিটা দিন, ফেলাট পরিষ্কার করে হামরা থাকবে, বেড়াল, কুকুর, চামচিকে, কুছ নেহি রহেগা চাচা, চাচা, গুলাম কিব্রিয়া পল্টন আর সুজিত বিশ্বাস নান্টু...। নান্টু বলল, ভোটার লিস্টে আমরা নেই স্যার, যখন বলবেন চলে যাব, চাবিটা দিন, পল্টন আর নান্টু ফেমিলি নিয়ে থাকবে।
—চাচা, চাচা...পল্টন ডাকতে লাগল অভিজিৎকে। অভিজিৎ হালদার রক্তের শর্করা, রক্তচাপ ইত্যাদি কমাতে হাঁটছে। নানা রোগের ডিপো সে। হাঁটাই একমাত্র দাওয়াই। তার পিছু পিছু দুই ওস্তাদ চলেছে, চাবিটা দিন চাবিটা দিন করতে করতে। এরই ভিতর পল্টনের মনে পড়তে জিজ্ঞেস করল, চাচা, সাইরেন কখন বাজে, এখন না তখন, বৈকালে না সক্কালে? সাইরেন বাজবে। সময়েই বাজবে। পল্টন না জানলে নান্টু জানে, নান্টু না জানলে পল্টন।
অঙ্কন: সোমনাথ পাল