


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৭টা। অজানা একটি নম্বর থেকে ফোন এল আটা পরিবারে। অপরপ্রান্ত থেকে বলা হল—‘হাওড়ায় নিবেদিতা সেতু এলাকায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কাইয়াম আটা ও তাঁর ছেলে কবির আটার। শুধু তাই নয়, তাঁদের সঙ্গে থাকা অলিল মণ্ডল ও প্রশান্ত পালেরও মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনায়। দ্রুত স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্ত কাগজ নিয়ে হাওড়ার বালি থানায় আসুন।’ এই কথা শোনার পর চোখে অন্ধকার দেখছেন পরিবারের সদস্যরা। বাড়ির মহিলারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। জড়ো হতে থাকেন প্রতিবেশীরাও। মুহূর্তের মধ্যে একই পাড়ার তিনজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে অশোকনগরের ভুরকুণ্ডা পঞ্চায়েতের হিজলিয়া এলাকায়। খুশির ঈদের আগেই গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
অশোকনগরের হিজলিয়া এবং হাবড়ার বাণীপুরে অনেকেই রেডিমেড পোশাকের ব্যবসা করেন। সারাবছর তাঁরা হাওড়ার অঙ্কুরহাটিতে যান ব্যবসার তাগিদে। দুর্গাপুজো থেকে চৈত্রের সেল ও ঈদের সময়ে বাজারে রেডিমেড পোশাকের চাহিদা বেশি থাকে। বৃহস্পতিবার রাত দুটো নাগাদ পিকআপ ভ্যানে হাটে যাচ্ছিলেন হিজলিয়ার বাসিন্দা কবির ও তাঁর বাবা কাইয়াম আটা। সঙ্গে তাঁদের প্রতিবেশী ব্যবসায়ী অলিল মণ্ডল ও হাবড়ার বাণীপুরের ব্যবসায়ী প্রশান্ত পাল। হাওড়ার নিবেদিতা সেতু সংলগ্ন টোল প্লাজার কাছে ওই পিকআপ ভ্যানের টায়ার ব্লাস্ট করে মৃত্যু হয় চারজনের। ঈদের আগে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কবিরের সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী। একসঙ্গে স্বামী আর ছেলেকে হারিয়ে বুক চাপড়ে কাঁদছেন কবিরের মা। তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন আত্মীয় পরিজনরা। কিন্তু চোখের জলে বাঁধ মানছে না কারও। বাবা ও ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে এদিন সকাল থেকে প্রতিবেশী থেকে পরিজনেরা এসেছেন তাদের বাড়িতে। বৃহস্পতিবার গভীর পরিবারের সদস্য নুরুল আলম আটা বলেন, ঘটনাটি একেবারে মর্মান্তিক। ১০ মাস আগে কবিরের বিয়ে হয়েছিল। অন্যদিকে নিহত অলিল মণ্ডলের বাড়িতে রয়েছেন মা, স্ত্রী ছাড়াও দুই নাবালক সন্তান। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটির মৃত্যুতে দিশেহারা মণ্ডল পরিবার। মৃতের দাদা সাইফুল মণ্ডল বলেন, রাত দুটো নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয় ওরা। শুক্রবার তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার কথাও ছিল। এবার খুশির ঈদ পালন হবে না আমাদের এলাকা, সর্বোপরি বাড়িতে। এনিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আতাউর রহমান বলেন, ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমাদের এলাকার তিনটি পরিবার একেবারেই অসহায় হয়ে পড়ল। এদিকে হাবড়া ২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ গুপি মজুমদার বলেন, ঈদের আগে এই ঘটনা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। আমরা পরিবারের পাশে থাকব।