


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সর্বভারতীয় র্যাঙ্কিংয়ে সামগ্রিকভাবে প্রথম দশে স্থান পেল আইআইটি খড়্গপুর। বাংলার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থান ষষ্ঠ। এক্ষেত্রে প্রথম তিনে রয়েছে আইআইটি মাদ্রাজ, আইআইটি বেঙ্গালুরু এবং আইআইটি বম্বে। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ওভারঅল র্যাঙ্কিং’ নবম। বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্কে ইন্ডিয়া র্যাঙ্কিংস (এনআইআরএফ) ২০২৫ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে শিক্ষামন্ত্রক। একাধিক ক্যাটিগরিতে ভাগ করে এই র্যাঙ্কিং দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাটিগরিতে প্রথম স্থানে রয়েছে যাদবপুর। এই তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে তাদের সার্বিক র্যাঙ্কিং অনেকটাই নীচে। ৪৭ নম্বরে নেমে এসেছে এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তবে দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ে ন’নম্বরে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এনআইআরএফের র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটাই পিছনে চলে গিয়েছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। গত বছর ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে ছিল গুরুদেবের স্বপ্নের বিশ্বভারতী। এ বছর সেখান থেকে নেমে ঠাঁই হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০-এর মধ্যে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স, বেঙ্গালুরু। দ্বিতীয় স্থানে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। তিন নম্বরে মণিপাল অ্যাকাডেমি অব হায়ার এডুকেশন। কলেজের সর্বভারতীয় র্যাঙ্কিংয়ে অবশ্য স্থান পেয়েছে বাংলার দু’টি মহাবিদ্যালয়। ষষ্ঠ এবং অষ্টম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ সেন্টিনারি কলেজ ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ। এক্ষেত্রে সারা দেশের নিরিখে প্রথম পাঁচটি স্থানই দিল্লির দখলে। তালিকায় রয়েছে—হিন্দু কলেজ, মিরান্ডা হাউস, হংসরাজ কলেজ, কিরোরিমাল কলেজ এবং সেন্ট স্টিফেনস কলেজ।
দেশের সেরা ১০ ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচ নম্বরে স্থান পেয়েছে আইআইটি খড়্গপুর। ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে কলকাতার আইআইএম জোকা। আর্কিটেকচার অ্যান্ড প্ল্যানিং ক্যাটিগরিতে তিন নম্বরে রয়েছে আইআইটি খড়্গপুর এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে শিবপুর আইআইইএসটি। ল’ কলেজগুলির মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে কলকাতার দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জুডিশিয়াল সায়েন্স। রিসার্চ ক্যাটিগরিতে পঞ্চম স্থানে রয়েছে আইআইটি খড়্গপুর। ইনোভেশনের ক্ষেত্রেও চার নম্বরে রয়েছে আইআইটি খড়্গপুরের নাম।
অন্যদিকে, আজ, শুক্রবার শিক্ষক দিবসে জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন বাংলার দু’জন—খড়্গপুর কুচলাচাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তনুশ্রী দাস এবং দিল্লি পাবলিক স্কুল নিউটাউনের শিক্ষিকা মধুরিমা আচার্য। সবমিলিয়ে শিক্ষামন্ত্রকের স্কুল শিক্ষাদপ্তর মোট ৪৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বাছাই করেছে। তাঁরা প্রত্যেকেই আজ, শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার নেবেন। একইভাবে শিক্ষামন্ত্রকের উচ্চ শিক্ষাদপ্তর জাতীয় পুরস্কারের জন্য বাছাই করেছে আরও ২১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে। বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পলিটেকনিক কলেজ থেকে তাঁদের বেছে নেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের কেউ নেই। অর্থাৎ, সবমিলিয়ে এবার জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন দেশের মোট ৬৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। বৃহস্পতিবার তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ, শুক্রবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে নৈশভোজে শামিল হবেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা।