


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মন্ত্রিসভার রদবদল হবে? যোগী আদিত্যনাথকে দেখা গিয়েছে তার আগে দিল্লি আসতে। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। বড়োসড়ো কোনো ঘোষণা করা হবে রাজ্যে? উত্তরাখন্ড, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীকে দেখা যাবে দিল্লিতে এসেছেন তার আগে। এই চিত্র পরিচিত হয়ে গিয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্য মানেই সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। দিল্লিতে এসে সবুজ সংকেত নিতে হয়। এমনকী রোডম্যাপ দিল্লি থেকেই নির্দেশিত হয়। বিহার এত বছর ধরে এনডিএ জোটের শাসনে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নীতীশ কুমার। তাই তিনি একক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। সেই রাজনৈতিক স্ট্যাটাস ও ক্ষমতাও তাঁর ছিল। কিন্তু নীতীশ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে আসার পর বিহারও অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের মতো একই পথে অগ্রসর হয়েছে।
বিহারে শুক্রবার ছিল আস্থা প্রস্তাব। প্রত্যাশিতভাবেই এনডিএ জয়ী হয়েছে। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবার মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করবেন। কিন্তু দেখা গেল তার আগে তিনি দুদিন ধরে কাটিয়ে গেলেন দিল্লিতে। দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। বিহারের আসন্ন মন্ত্রিসভার কাঠামো নির্মাণ এবং পরবর্তী প্রশাসন পরিচালনার ব্লু প্রিন্ট যে দিল্লি থেকেই হবে তারই স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেল। এই নিয়ে প্রবল আক্রমণও করেছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল। বিধানসভার মধ্যেই সম্রাট চৌধুরীকে লক্ষ্য করে তেজস্বী যাদব বলেন, আপনার পাগড়ি কার কাছে সমর্পণ করেছেন সেটা সকলেই জানে। শুধু দেখবেন বিহারের অস্মিতাকে কারও পায়ে সমর্পণ করবেন না। প্রকৃতপক্ষে মোদি এবং অমিত শাহের স্ট্র্যাটেজি হল, রাজ্যে রাজ্যে এমন এই ব্যবস্থা কায়েম করা, যেখানে কোনও জননায়ক মুখ্যমন্ত্রী যেন না বসেন গদিতে। আপাতভাবে কম পরিচিত এবং দিল্লির ইশারায় অনুগত থাকবেন এরকম কাউকে তরুণ প্রজন্মকে বসানো। আর দিল্লি থেকেই সেই রাজ্য চলবে। সেই প্রক্রিয়ার সূত্রপাত বিহারে হয়েছে।