


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল কর্মীদের এখন প্রধান কাজ এসআইআর প্রক্রিয়ায় পুরোমাত্রায় নজরদারি এবং আম জনতাকে সাহায্য করা। তারপর ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া। আনন্দ-ফুর্তি যা কিছু হবে ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধে জয়ের পর। দলীয় কর্মিসভা থেকে সকল তৃণমূল কর্মীকে স্পষ্ট এই নির্দেশ দিলেন সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় স্তরে আরও কিছু পদক্ষেপ কয়েকদিনের মধ্যেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে জানাবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘোষণা করেছেন জননেত্রী।
সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের বুথ লেভেল এজেন্টদের নিয়ে বৈঠক করেন মমতা। ৪০টি বিধানসভা কেন্দ্রের বিএলএ ও তৃণমূল নেতৃত্ব ছিলেন। সেখানেই দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন নেত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এবছর কোনও পিকনিক হবে না। পিকনিক হবে ২০২৬ সালে জেতার পর।
ফলে মমতা এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া এখন যে পর্যায়ে চলছে, সেখানে সকল তৃণমূল কর্মীর প্রধান কাজ হল সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সর্বতোভাবে তাঁদের সাহায্য করা। এসআইআর শুনানি পর্বে তৃণমূলের বুথ লেভেল এজেন্টরা কীভাবে মানুষের পাশে থাকবেন, তার কয়েকটি গাইডলাইন দেওয়া হয়। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, শুনানিতে নজর রাখুন। কোনও অভিযোগ পেলেই জানান। বহিরাগত লোক আসছে কি না নজর রাখুন। তারা নাম তুলছে কি না, কোথা থেকে আসছে, কোথায় থাকে সব নজর রাখুন। যাঁরা নতুন ভোটার হবেন তাঁদের দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলবেন, কিন্তু সবদিক খেয়ালও রাখবেন। পাড়ায় পাড়ায় নজর রাখুন হোটেল এবং গেস্ট হাউসে কারা এসে থাকছে। এসসি, এসটি, ওবিসি, সার্টিফিকেটের প্রয়োজনে ‘মে আই হেল্প ইউ’ কাউন্টারে নিয়ে যান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করুন। শুনানির সময় এলাকার মানুষের পাশে থাকতে হবে তৃণমূল কর্মীদের। ক্যাম্প করতে হবে। এছাড়া তৃণমূল কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যান। খুঁজে বের করুন কারও নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না। পরিযায়ী শ্রমিকদের বলুন ভবিষ্যতের স্বার্থে অন্তত দু’বার আসতে হবে তাঁদের। প্রয়োজনে একবার এসআইআর শুনানিতে, আর একবার ভোট দিতে। পাশাপাশি কর্মীদের প্রতি মমতার নির্দেশ, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির কর্মীদের বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা কোন ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন, কোথায় থাকেন, তৃণমূল কর্মীরা খুঁজে বের করুন। সব তথ্য চাই।
বিভিন্ন সূত্র মারফত মমতার কাছে খবর এসেছে, বেশকিছু কাউন্সিলার ঠিকমতো কাজ করছেন না। তাঁদের সতর্ক করেছেন নেত্রী। তিনি বলেন, কাউন্সিলার, বিধায়ক এবং ব্লক প্রেসিডেন্টদের বলব, দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। যেসব কাউন্সিলারের নামে অভিযোগ আসছে সেখানে ব্লক সভাপতিদের দায়িত্ব দিয়ে দেব। আর যাঁরা ভালো কাজ করবেন তাঁদের ব্লক প্রেসিডেন্ট করা হবে।