


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে অনিয়মের জেরে ইতিমধ্যে পাঁচ নির্বাচনী আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কাজে কোথায় গলদ জানতে নির্বাচন কমিশনের স্ক্যানারে এখন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর (ডিইও) নিয়োগকারী সংস্থা। এসবের মধ্যেই এবার ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) পরামর্শ দিচ্ছে বিভিন্ন জেলার নির্বাচনী অফিস। ডিইও’রা ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনপত্র অনলাইনে আপলোড করার পর সেটা দু’বার যাচাই করতে হবে ইআরও’দের। এমনই অলিখিত মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কোনওরকম ফাঁক রেখে কাজ করা যাবে না। কোনও ফর্ম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে হিয়ারিংয়ে ডেকে তা পুনরায় যাচাই করতে হবে আধিকারিকদের। এমন সব বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন যেভাবে পাঁচ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে তারপর থেকে চাপা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে ইআরও’দের মধ্যে। কখন, কে বা কারা কমিশনের কোপে পড়বে সেই নিয়ে ঘুম উড়েছে তাঁদের। নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ আধিকারিকরা বলছেন, ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের উপর চোখ বুজে ভরসা করার মাশুল গুনছেন ওই অফিসাররা। বিভিন্ন জেলায় দেখা যায় যে, সংশ্লিষ্ট বিধানসভার ডিইও অনলাইনে ফর্ম যাচাই করে আপলোড করে দেওয়ার পর সেটা সংশ্লিষ্ট ইআরও দ্বিতীয়বার সেটা পরীক্ষা করেন না। ফর্মে ঠিক ভুল কোনওটাই দেখা হয় না। এবারে যেহেতু কমিশন কড়াকড়ি শুরু করেছে, তাই নানা ভুল ত্রুটি ধরা পড়ছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের পরপরই অনেক ইআরও আর ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের উপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দিতে রাজি নন বলে সাফ জানিয়েছেন। ভুল কাজ হলে কমিশনের কোপে কে পড়বে সেটা নিয়েই এখন আতঙ্কিত তাঁরা। তাই ফর্ম সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আরও খুঁটিয়ে যাচাই করা হচ্ছে এখন। সামনে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন রিভিউ (এসআইআর)। তার উপর ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনের যাচাই প্রক্রিয়া। এই দুই নিয়ে বেশ চাপে নির্বাচনী আধিকারিকরা। তাঁদের মধ্যে কেউ বলছেন, কমিশন কী এবং কোন ভুল ধরবে সেটা আঁচ করে যাচ্ছে না। আবার কেউ বলছেন, কমিশন এখন ভুল ধরার জন্যই বসে আছে। ফলে এখন কাজের ফাঁকে ফাঁকে ফর্ম ডিসপোজাল নিয়ে ভেরিফাই করে নিতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও’দের।