


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, কলকাতা ও চুঁচুড়া: প্রত্যাঘাত, একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস এবং যুদ্ধবিরতির পরও লাগাতার চাপ বজায় রাখা। এই ঘটনাক্রমের জেরেই অবশেষে ঝুঁকল পাকিস্তান। ২২ দিন পর মুক্তি দেওয়া হল বিএসএফ জওয়ান পূর্ণমকুমার সাউকে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ পাঞ্জাবের আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে জয়েন্ট চেক পোস্টে রিষড়ার এই জওয়ানকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তখন তাঁর একগাল দাড়ি। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার পরদিনই পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে কর্তব্যরত অবস্থাতেই ভুল করে পাকিস্তানের মাটিতে পা দিয়ে ফেলেন পূর্ণম। সীমান্তে ‘কিষান গার্ড’ হিসেবে কৃষকদের দেখভাল ছিল তাঁর দায়িত্বে। যে ভারতীয় কৃষকদের পাকিস্তানে জমি আছে, তাঁদের বেড়া পার করে চাষাবাদে সাহায্য করতে গিয়েই পাকিস্তানের দিকে চলে যান পূর্ণম এবং ধরা পড়েন। যুদ্ধবিরতি এবং ভারতের চাপে অবশেষে মুক্তি। তবে শারীরিকভাবে সুস্থই রয়েছেন পূর্ণম। আপাতত তাঁকে কোনও কাজ দেওয়া হবে না বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। শুধু মানসিক স্থিরতা ফেরানোর জন্য চলবে কাউন্সেলিং। তারপর তাঁকে বসতে হবে বিএসএফের এক বিশেষ টিমের মুখোমুখি। পূর্ণমের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনা কি দুর্ব্যবহার করেছে? কোনও তথ্য কি তিনি জানতে পেরেছেন? এমন বহু প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন বিএসএফের বিশেষ টিম।
পাকিস্তানের বেড়াজাল পেরিয়ে ভারতের মাটিতে পা রেখেই পূর্ণম ভিডিও কল করেন স্ত্রী রজনীকে। তিনি তখন শ্রীরামপুরে। রাস্তাতেই কথা হয়। পূর্ণম তখন পাঠানকোটে নিজের ক্যাম্পের সেলুনে। সাফসুতরো হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তারপর হবে জেসিপি স্টেডিয়ামের স্বর্ণজয়ন্তী দরজার সামনে সহযোগীদের সঙ্গে ফটোশ্যুট। প্রথমেই পূর্ণম জানতে চান ছেলের কথা। রজনী সাউ বলছিলেন, ‘রাস্তায় ছিলাম। মোবাইল ফোনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তাই বেশি কথা হয়নি। উনি শুধু বললেন, আমি ভালো আছি, সুস্থ আছি। চিন্তার কিছু নেই। দ্রুত রিষড়ার বাড়ি ফিরব।’ বিকেলে পূর্ণম ফের ভিডিও কল করবেন বলে স্ত্রীকে জানিয়ে ফোন রেখে দেন। ততক্ষণে অবশ্য রজনী সুখবরটা পেয়ে গিয়েছেন। সকালেই ফোন এসেছিল সাউ ভিলায়। বিএসএফের একাধিক শীর্ষকর্তা জানিয়েছিলেন তাঁর স্বামীর মুক্তির সিদ্ধান্তের কথা।
এদিন দুপুর থেকেই রিষড়ার বাড়িতে চলছে মিষ্টিমুখ। প্রতিবেশীদের বাড়িতেও মিষ্টি বিলি হয়েছে। রজনী সাউ বারবার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতার কথা। এর মধ্যে নিত্যদিন খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিএসএফের ডিজির সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি। কল্যাণবাবু এদিন বলেন, ‘অবশেষে আমাদের উদ্যোগ সফল হল।’ বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ণমের স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার আমার কথা হয়েছে। বিএসএফের ডিজির সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ রেখেছিলাম। রজনী সাউকে আমরা পরশুদিনই জানিয়ে দিয়েছিলাম, আপনার স্বামী ভালো আছেন। তবে তাঁকে ছাড়ার জন্য বেশ কিছু প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে। সেই কারণেই একটু সময় নেওয়া হচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছিলাম। আজ পূর্ণম ছাড়া পেয়েছেন। ওঁর পরিবার খুশি। আমরা খুশি। দেশবাসীও খুশি। কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও এদিন দিল্লি থেকে পূর্ণমের পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এই পদক্ষেপে স্বস্তিতে ভারত সরকারও। পূর্ণমকে মুক্তি দেওয়ার পর সৌজন্যের খাতিরে ভারত মুক্তি দিয়েছে ধৃত পাকিস্তানি রেঞ্জার মহম্মদ্দুল্লাকে। গত ৩ মে রাজস্থানে ধরা পড়েছিল সে।