


সংবাদদাতা, বনগাঁ: ‘১৯৪৭, ১৯৬৫ ও ১৯৭১। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের তিনটি বড় যুদ্ধ হয়েছে। প্রত্যেক বারই ধরাশায়ী হয়েছে ওরা। তবুও শিক্ষা নেয়নি পাকিস্তান। এবার ওদেরকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে।’—ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ প্রসঙ্গে একথা বললেন বনগাঁর বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার দুলাল সরকার।
বনগাঁ দীনবন্ধুনগরে নিজের বাড়িতে বসে দুলালবাবু বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তান তিনটে যুদ্ধ হয়েছে। বহু সেনার প্রাণ গিয়েছে। দেশের সম্পদ নষ্ট হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি। এবার একটা স্থায়ী সমাধান হোক।’
মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের বেশকিছু জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা করে ভারতীয় সেনা। ওই প্রসঙ্গে এই প্রাক্তন সেনা অফিসার বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে নয়, ওদেরকে মারতে হবে প্রকাশ্যে।’ ‘তবে এখানেই থামবে না ভারত। এর চেয়েও বড় হামলা করবে দেশের সেনা’—বলছেন দুলাল সরকার।
তিনি বলেন, ‘কয়েকদিনের মধ্যেই এর চেয়েও বড় হামলা হবে পাকিস্তানে।’ তবে তাঁর মতে, ‘এই হামলা বন্ধ হতে পারে একমাত্র পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করলে।’ বনগাঁর বাসিন্দা দুলাল সরকার ছোট থেকেই সেনা বাহিনীতে যোগদানে উৎসাহী ছিলেন। ১৯৬৩ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ট্রেনিং শেষে ১৯৬৫ সালে রাজৌরি ও পুঞ্চ সেক্টরে যান। শুরু হয় যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে অংশ নেন সেদিনের বছর কুড়ির তরতাজা যুবক। ১৯৭১ সালে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। সেইসময় বনগাঁ জুড়ে সেনা ট্রাঙ্ক দেখে বুঝতে পেরেছিলেন বাড়িতে বেশিদিন থাকা হবে না। পরদিনই বাড়িতে টেলিগ্রাম আসে। তড়িঘড়ি পৌঁছে যান কর্মক্ষেত্রে। যোগ দেন যুদ্ধে।
বছর বিরাশির দুলালবাবুর মতে, ‘এবার যুদ্ধ হলে তা দু’দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। পাকিস্তানকে পিছন থেকে অনেক দেশ মদত দিচ্ছে। তবে পাকিস্তান কখনোই বড়সড় আক্রমণ করতে পারবে না। ওরা পারমাণবিক বোমার ভয় দেখাবে মাত্র। কিন্তু তা ব্যবহার করতে পারবে না।’
অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার দুলাল সরকার বলেন, ‘১৯৬৫ এবং ১৯৭১-এর ভারত আর আজকের ভারতে তফাত অনেক।’ সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় আন্ডার কভার অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ‘আজকের ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার আগে যেকোনও দেশকেই ভাবতে হবে।’ তিনি আশাবাদী যে, ‘এই যুদ্ধের পর বিশ্ব মানচিত্রে ভারতের নাম সবদিক থেকেই এগিয়ে থাকবে।’