


ইসলামাবাদ: বালোচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) হাত থেকে হাইজ্যাক হওয়া জাফর এক্সপ্রেসের সমস্ত পণবন্দি যাত্রী এখন মুক্ত। শেষ হয়েছে অভিযান। বুধবার একথা ঘোষণা করেছিল পাক সেনা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই দাবি নাকচ করে দিল বিদ্রোহীরা। বিএলএ-র পাল্টা দাবি, হার লুকোতে চাইছে পাক সেনা। বন্দি বিনিময়ের প্রস্তাবও তারা ফিরিয়ে দিয়েছে। বিবৃতি দিয়ে বিএলএ জানিয়েছে, ‘একাধিক জায়গায় যুদ্ধ এখনও চলছে। শত্রুপক্ষের (পাক সেনা) বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এটাই বাস্তব। আসলে পাক সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে কোনও সাফল্য পায়নি। পণবন্দিদের মুক্ত করতে পারেনি। পণবন্দিদের ছেড়ে চলে গিয়েছে পাক সেনা। ওদের মৃত্যুর জন্য তারাই দায়ী থাকবে।’ একইসঙ্গে তারা জানিয়েছে, ‘জয়ের দাবি সত্যি হলে যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পাঠাক পাক সেনা। তাহলেই গোটা বিশ্ব তাদের পরাজয়ের বাস্তব ছবি দেখতে পাবে।’
মঙ্গলবার থেকে ‘জাফর এক্সপ্রেস’ অভিযানে নাকানিচোবানি খেতে হয়েছে পাক সেনাকে। পণবন্দিদের মধ্যে লুকিয়ে ছিল বিএলএ-র আত্মঘাতী স্কোয়াড মজিদ ব্রিগেডের সদস্যরা। যার জেরে বারবার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল অভিযান। বুধবার পাক বাহিনী দাবি করে, ৩৪৬ জন পণবন্দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৩৩ বিদ্রোহী খতম হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্রোহীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ২১ জন যাত্রী ও চারজন সেনা। ঘটনায় আফগানিস্তান যোগের কথা উল্লেখ করেছিলেন পাক সেনার ডিজি (জনসংযোগ) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে বসে থাকা মাস্টারমাইন্ডদের সঙ্গে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছিল বিদ্রোহীরা। সেখান থেকেই যাবতীয় নির্দেশ আসছিল।’ এদিন শরিফের সেই দাবি উড়িয়ে দিল তালিবান। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আবদুল কাহার বালখি বলেন, ‘বালুচিস্তান প্রদেশে ট্রেন হামলার ঘটনায় আফগানিস্তানকে দায়ী করেছেন পাক সেনার মুখপাত্র। এই ভিত্তিহীন অভিযোগ আমরা নাকচ করছি। দায়িত্বহীনদের মতো মন্তব্য করে কোনও লাভ নেই।’