


ইসলামাবাদ: হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। মুখে অনাবিল হাসি। সে হাসিতে ঝড়ে পড়ছে প্রত্যয়। পাকিস্তানি সেনাকে হারিয়ে বালুচিস্তানকে স্বাধীন করতে হবে। তিনি বিদ্রোহী বালোচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) আত্মঘাতী বাহিনীর সদস্য হাওয়া বালোচ। বালুচিস্তান প্রদেশে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানি সেনা। আর সেই সেনা অভিযানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন হেরফ’ শুরু করছে বিএলএ। মাজিদ ব্রিগেডের হয়ে রণাঙ্গনে বুকচিতিয়ে লড়াই করে প্রাণ হারিয়েছেন হাওয়া। তবে মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে সহযোদ্ধা তথা এলাকার মানুষের প্রতি তাঁর বার্তা রেখে গিয়েছেন। ভয়ডরহীন হাওয়া জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তান কখনও আমাদের সঙ্গে পারবে না।’
সোমবার বিএলএ-র মিডিয়া শাখা ‘হাকাল’-এর পক্ষ থেকে হাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। গদর ফ্রন্টে তিনি তখন লড়াইয়ে ব্যস্ত। এরমাঝেই ভিডিও রেকর্ড করা হয়। বিএলএ-র পক্ষ থেকে এক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘গদর ফ্রন্টে দ্বিতীয় দফায় অপারেশন হেরফে অন্য আত্মঘাতী সহ যোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে বুকচিতিয়ে লড়াই করেছেন হাওয়া। মৃত্যুর ১২ ঘণ্টা আগে এটাই ছিল তাঁর শেষ বার্তা।’ সেই ভিডিওতে হাওয়া বলেন, ‘হে বালোচ দেশের অধিবাসীবৃন্দ। তোমাদেরই এক বোন পাকিস্তানের পাঞ্জাব সেনার বিরুদ্ধে লড়ছে। এবার তোমাদেরও এতে শামিল হতে হবে। এছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।’ ভিডিওর শেষে রয়েছে হাওয়া বালোচের রক্তাক্ত দেহ। এদিন আরও এক আত্মঘাতী জঙ্গির শহিদ হওয়ার কথা জানিয়েছে বিএলএ। তাঁর নাম আসিফা মেঙ্গেল। তিনি ২০১৩ সালে বিএলএ-তে যোগ দেন। গত বছর তিনি আত্মঘাতী বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার তিনিও গদর ফ্রন্টের লড়াইয়ের সময় শহিদ হন।
টানা ৪০ ঘণ্টা ধরে অপারেশন হেরফ চলছে বালুচিস্তানে। পাক সরকারের সম্পত্তি, আইএসআই গোয়েন্দা দপ্তরের কার্যালয়, ব্যাংক সহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহীরা। বিএলএর- দাবি, তাদের হামলায় ২০০ পাক সেনা নিহত হয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ সেই তথ্য স্বীকার করেনি। তারা পালটা দাবি করেছে, বালুচিস্তান আপাতত তাদেরই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অবস্থায় পাকিস্তান দাবি করল গত আটচল্লিশ ঘণ্টায় ১১৭ জন বিদ্রোহীকে তারা খতম করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক দশকে বালুচিস্তান প্রদেশে এতবড় অভিযান কখনও করেনি পাকিস্তান। ক্ষয়ক্ষতির নিরিখে আগের যাবতীয় নজির ছাপিয়ে গিয়েছে। রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে আরও ২২ জন বিদ্রোহীকে নিকেশ করেছে পাক সেনা। সোমবার এই ‘সাফল্যে’র জন্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণমন্ত্রী মহসিন নাকভি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের রক্ত সস্তা নয়।’ নতুন করে তিনি আবার এর পিছনে ভারতের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘মৃতরা প্রত্যেকেই ভারত সমর্থিত জঙ্গি।’ ছবি সৌজন্যে: এক্স