


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: নাগরিকত্ব ইস্যুতে বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি। এক গোঁসাইকে মাটিতে ফেলে মারধর করার পর সর্বত্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই পর্বে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ বিজেপি সমর্থক মতুয়ারা! তাঁরা বলছেন, এতে মতুয়ারা লজ্জিত। এই ঘটনা নিয়ে বুধবার রাতে তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের নেতা উত্তম বাইন গাইঘাটা থানায় ১৩ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। তালিকায় আছে বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষও। মারধর, খুনের চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বাগদা থেকে বরুণ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে বনগাঁ আদালত তাঁকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে বিকাশ অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তৃণমূল মতুয়া সংগঠনের দাবি, বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা হলে রবিবার ফের গর্জে উঠবেন মতুয়ারা। এদিন ঠাকুরবাড়ি ছিল থমথমে। বসেছে পুলিশ পিকেট।
এসআইআরে ১ লক্ষ মতুয়া ভোটারের নাম বাদ গেলেও তাদের সহ্য করে নেওয়া উচিত! দু’দিন আগে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের এই মন্তব্যের ‘জবাব’ চাইতে মতুয়া পাগল, গোঁসাই, দলপতিরা বুধবার জোটবদ্ধ হন। শান্তনুর বাড়ির কাছে তাঁরা পৌঁছতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে ঠাকুরবাড়িতে। নান্টু গোঁসাইকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে চড়, কিল, লাথি মারা হয়। মতুয়াদের গোঁসাইরা সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র। নান্টু গোঁসাইকে ওইভাবে ফেলে পেটানোয় সাধারণ মতুয়ারা ভীষণ বিরক্ত। এছাড়া বিজেপি প্রভাবিত মতুয়াদের একাংশও এর বিপক্ষে।
নাটমন্দিরের পাশে চায়ের দোকানে দাঁড়িয়েছিলেন মছলন্দপুরের মতুয়া সম্প্রদায়ের সহদেব হালদার। ক্ষোভের সুরে তিনি বললেন, ‘ঠাকুরবাড়িতেই এমন হলে কীইবা আর বলার থাকে? গোঁসাইকে পেটানোয় মতুয়াদের মাথা হেঁট হল।’
এনিয়ে মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর বলেন, ‘মতুয়ারা শান্তনু ঠাকুরের কাছে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে জবাব চাইতে গিয়েছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিজেপির ক্যাডারদের জড়ো করে পাগল, গোঁসাইদের ফেলে পিটিয়েছে। এটা ঠাকুরবাড়ির লজ্জা। একজন গ্রেফতার হয়েছে, বাকিদের ধরা না-হলে ফের রবিবার গর্জে উঠবে মতুয়ারা।’
বিজেপি প্রভাবিত মতুয়া সংগঠনের মুখপাত্র সন্দীপ রায় বলেন, ‘এক বয়স্ক গোঁসাইকে মারধর করাতে অনুতপ্ত। ঘটনা মনে পড়লেই শিহরিত হচ্ছি।’ এরপর তাঁর প্রশ্ন, ‘ভিড়ের মধ্যে কেন একজন গোঁসাইকে আক্রান্ত হতে হল?‘ তাঁরই যুক্তি, ‘ক’দিন আগে মতুয়াদের অনশন মঞ্চ থেকে নান্টু গোঁসাই শান্তনু ঠাকুর সম্পর্কে বিভিন্ন কুকথা বলেন, যা মেনে নেওয়া যায় না। পুরোনো রাগেই উনি মার খেলেন।’
মমতা ঠাকুরের পালটা জবাব, ‘সবটাই নাটক। নিজেদের লজ্জা ঢাকতে এসব বলে বাঁচতে চাইছে।’
বৃহস্পতিবার দেখা গেল ঠাকুরবাড়ি থমথমে। নাটমন্দির ও শান্তনু ঠাকুরের বাড়ির সামনে হাতে গোনা দু’জন চেয়ার, টেবিল পেতে বসে আছেন মতুয়া কার্ড, হিন্দু শংসাপত্রসহ নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য। তবে, কেউই নেই টেবিলের কাছে। পুলিশ টহল দিচ্ছে এলাকায়।