


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যারিকেডের ওপারে সোজা গেলে তৃণমূলের ধরনা। তাই পুলিশ ডান দিকে যেতে বলল তাঁদের। কিন্তু বাম মহিলারা সেকথা শুনতে নারাজ। ‘চাইলেই ভাঙতে পারতাম ব্যারিকেড’— এই বলে এস এন ব্যানার্জি রোডের উপরেই বসে পড়লেন বামপন্থী মহিলা সংগঠনগুলির কর্মী-সমর্থকরা। ব্যারিকেড ভাঙা হবে না? শেষ অবধি ভাঙা হল বটে, তবে কর্মসূচি শেষে মেট্রো ধরার জন্য। ঝামেলা থামল পুলিশের সঙ্গে মহিলাদের ‘শান্তি চুক্তি’তে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মহিলাদের ভোটাধিকার রক্ষা, রান্নার গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদ সহ একাধিক দাবিতে নারী স্বাধিকার সমন্বয়ের আহ্বানে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল এদিন। যেখানে সমস্ত বামপন্থী দলের মহিলা সমিতি যোগ দেয়। রবিবার দুপুরে শিয়ালদহ থেকে কলকাতা পুরসভা পর্যন্ত মিছিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এস এন ব্যানার্জি রোড ও রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডের মোড়ে পুলিশ মিছিল আটকে দেয়। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিনহাকে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়াতে দেখা যায়। পুলিশের সাফ কথা, সোজা মিছিল নিয়ে যাওয়া যাবে না। সেখানে জেড ক্যাটিগরির নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। বরং আপনারা ডানদিকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারের দিকে চলে যান। মোনালিসা ও জাহানারা খানরা জানিয়ে দেন, শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালন করব আমরা। দু’পক্ষই অনড় থাকায় শেষমেশ রাস্তাতেই বসে পড়েন মহিলারা। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ থাকে চার রাস্তার মোড়। সেখানেই শেষ হয় কর্মসূচি। এবারই ‘ছক ভাঙা আন্দোলন’। কর্মসূচি শেষে মেট্রো ধরতে সোজা যেতে চান মহিলারা। পুলিশ রাজি নয়। এবার আর নিজেদের আটকাতে পারেননি বাম মহিলারা। সটান ব্যারিকেড ভেঙে কয়েকজন সোজা চলে যান। আবার পুলিশ এসে তা লাগিয়ে দেয়। এদিকে দলছুট হয়ে তখনও ব্যারিকেডের এপারে দু’জন। দীর্ঘ কথাবার্তার পর হয় ‘শান্তি চুক্তি’। দু’জন মহিলাকে ব্যারিকেড সরিয়ে দলে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। দিন কয়েক আগে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের কাছে অবস্থানে পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সেদিনও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে অবস্থান করতে দেখা গিয়েছিল সিপিএম কর্মীদের। এদিকে, এদিন আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূলের মহিলারা কালো শাড়ি পরে, হাতা-খুন্তি হাতে গ্যাসের দামবৃদ্ধি ও ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে ধর্মতলায় ধরনা মঞ্চে এসেছিলেন। তাঁরাও তাঁদের মতো করে দিনটি উদযাপন করেছেন।