


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাপের মুখে অবশেষে রাজ্যে বহুতল আবাসনগুলিতে ভোটকেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এল নির্বাচন কমিশন। এর আগে আবাসনে বুথ তৈরির ব্যপারে জেলাগুলির কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছিল কমিশন। সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাত্র দু’টি রিপোর্ট এসেছে। এ ব্যাপারে তেমন কোনও আগ্রহ দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, গত মাসেই কয়েক দিনের ব্যবধানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে জোড়া চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবাসনে বুথ তৈরিতে আপত্তি কথা জানিয়েছিলেন মমতা। প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘বুথ সব সময়েই সরকারি বা আধা-সরকারি জায়গায় হয়ে থাকে। আবাসনে বুথ তৈরি হয় কীভাবে?’ এবার কমিশনই সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে গেল।
এদিকে, সোমবারই বিএলওদের পারিশ্রমিকের ৬১ কোটি টাকা ছেড়েছে রাজ্য। কমিশন সূত্রে খবর, আপাতত ওই টাকা বিএলও-এর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। বাকি টাকা পরে দেওয়া হবে। গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)-দের পারিশ্রমিক বাবদ রাজ্যের থেকে ৭০ কোটি টাকা পায় তারা। রাজ্যের অর্থদপ্তর সেই টাকা না দেওয়ায় বিএলও-দের পারিশ্রমিক দেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। এবার সেই টাকা দেওয়া হল। উল্লেখ্য, বিএলওদের পারিশ্রমিক প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে এবার ১২ হাজার টাকা হয়েছে। বিশেষ ভাতা-সহ তাঁরা মোট ১৪ হাজার টাকা পাবেন। বিএলও সুপারভাইজারদের পাওয়ার কথা ১৮ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, এসআইআরের কাজের জন্য এবার রাজ্যের সব বৃদ্ধাশ্রম, আশ্রম এবং প্রতিবন্ধী হোমে শিবির চালু করতে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-দের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। আজ মঙ্গলবার গিরিশ পার্ক এবং শোভাবাজার এলাকায় এই ধরনের শিবির করা হবে। ওই শিবিরে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল। সোনাগাছি-সহ রাজ্যের বিভিন্ন যৌনপল্লিতে এই ধরনের শিবির চালু করার জন্য আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এবার বিভিন্ন বৃদ্ধাশ্রম, আশ্রম এবং প্রতিবন্ধী হোমেও একই ধরনের শিবির খোলার সিদ্ধান্ত নিল তারা। মঙ্গলবার কলকাতায় মোট তিনটি জায়গায় বিশেষ শিবির চলবে। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কদমতলা মিলন সংঘে এবং শীতলা মন্দিরের কাছে দু’টি শিবিরের আয়োজন করা হবে। তৃতীয় শিবিরটি হবে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পুরসভার ‘ঘরে বাইরে’ কমিউনিটি হলে।