


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ সোমবার থেকে তিনদিনের জন্য রিজার্ভ ব্যাংকের আর্থিক নীতি নির্ধারক কমিটির বৈঠক বসতে চলেছে। তৃতীয় দিনে রেপো রেট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হবে। প্রশ্ন হল, এবার কি রেপো রেট কমবে? যেহেতু রিজার্ভ ব্যাংকের এই রেপোর হারের উপর নির্ভর করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলির আমানত ও ঋণের উপর সুদের হার, তার এই দিকে বিশেষ নজর রাখেন বিশেষজ্ঞরা। ওই বৈঠকের প্রাক্কালে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। তারা মনে করছে, এবার রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাই বেশি।
বর্তমানে রিজার্ভ ব্যাংক দেশে ৫.২৫ শতাংশ হারে রেপো রেট জারি রেখেছে। তার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, প্রতি দুমাস অন্তর আর্থিক নীতি নির্ধারক কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসের বৈঠকে রেট অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। শেষবার ০.২৫ শতাংশ রেপো কমানো হয়েছিল ডিসেম্বরের বৈঠকে।
এসবিআই মনে করছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যে বৈঠক হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান আর্থ সামাজিক অবস্থার ফারাক অনেকটাই। প্রথমত, ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধের ফলে গোটা দুনিয়া অভূতপূর্ব সংকটের মধ্যে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে যেভাবে জ্বালানি সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা ১৯৭৩ সালের পর থেকে এতটা কঠিক জায়গায় যায়নি। টাকার দামের পতন এবং ব্যারেল পিছু জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশের আমদানি করা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটাচ্ছে দারুণভাবে। দেশের খুচরো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার ৩.২১ শতাংশ। অথচ আমদানি করা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার ৫.৪ শতাংশ। আগামী দিনে তা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এরই সঙ্গে আরো একটি আশঙ্কা মাথা চাড়া দিচ্ছে বলে জানাচ্ছে তারা। যেহেতু সমুদ্রের জলরাশি স্বাভাবিকের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়ে রয়েছে, তাই দেশে সুপার এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চলতি গ্রীষ্ম ও আসন্ন বর্ষায় এর প্রভাব থাকবে। আর্থনীতির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুকূল হবে না। তাতে জিনিসের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে সুদের হার কমাতে চাইবে না রিজার্ভ ব্যাংক। সেই কারণেই রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখতে পারে তারা, মনে করছে এসবিআই।