


সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: মুড়িগঙ্গা নদীতে বারবার ডুবছে বাংলাদেশের পণ্যবাহী জাহাজ। গত কয়েক বছরে ছাই বোঝাই তিনটি জাহাজ ডুবে গিয়েছে। তার মধ্যে একটি নদী থেকে তোলা সম্ভব হয়নি। আজও ডুবে রয়েছে। ফলে নদীর ওই অংশ পলি জমে হয়ে গিয়েছে উঁচু। বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে নদীর জলের গতিপথ। এছাড়া বাকি একটি জাহাজ মেরামত সম্ভব হয়েছে। আর বর্তমানে ডুবছে অন্য একটি জাহাজ।
ডোবার পর জাহাজে থাকা ছাই নদীর জলে মেশে। এর ফলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় নদীর জলজ প্রাণী। এছাড়া নদীর জলও দূষিত হয়। পাশাপাশি জলের স্বাভাবিক গতিপথ বাধাপ্রাপ্ত হয়। স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনগুলি এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে। সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র এ বিষয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যে জাহাজ আসছে সেগুলির গঠনগত সমস্যা রয়েছে কি না প্রশাসনের তা দেখা উচিত। সেগুলি চলাচলের যোগ্য কি না তাও দেখা উচিত। শংসাপত্র (ফিটনেস সার্টিফিকেট) রয়েছে কি না তা যাচাই হওয়া অবিলম্বে দরকার। জাহাজ পুরনো হয়ে গেলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ এর পাশাপাশি জাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে নাবিকদের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অন্যান্য মৎসজীবীরা। নদী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তুহিন ভদ্র এ বিষয়ে বলেন, ‘ওভারলোড (অতিরিক্ত ওজন বহন) হওয়ার কারণে জাহাজগুলি ডুবতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’ সাংসদ বাপি হালদার বলেন, ‘বারবার জাহাজ ডুবে যাওয়ার কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। জাহাজ মন্ত্রকের উচিত নজর দেওয়া। প্রয়োজনে বিষয়টি সংসদে তোলা হবে।’ নিজস্ব চিত্র