


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কন্ঠে শোনা গিয়েছে স্বদেশির ডাক। তিনি বিদেশি পণ্য বয়কটের আহ্বান করে গ্রামে গ্রামে এই বার্তা প্রচারের কথা বললেন। তাঁর বক্তব্য হল, দাম বেশি হলেও যেন ভারতবাসী স্বদেশি পণ্য ব্যবহার করে। আত্মনির্ভর ভারত নির্মাণের লক্ষ্যে এই শপথ প্রয়োজনীয়। অথচ সেই মোদির সরকারের চোখের সামনেই ব্যাঙ্কিং সেক্টরে ঢালাও বিদেশি আর্থিক সংস্থা তথা বিদেশি ব্যাঙ্ক প্রবেশের অনুমতি পেতে চলেছে। বিমায় এফডিআই সম্পূর্ণ। এবার বেসরকারি ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের দরজা আরও প্রশস্ত করা হচ্ছে। এখন বিদেশি আর্থিক সংস্থা অথবা বিদেশি ব্যাঙ্ক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মালিকানা ক্রয় করতে পারে ভারতীয় ব্যাঙ্কের। এবার অংশিদারিত্ব সেই সীমা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া কয়েকমাস আগেই এই লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। জানা যাচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত যাতে বলবৎ করা যায়, সেটা নিশ্চিত করতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বিদেশি সংস্থার ভারতীয় ব্যাঙ্কিং জগতে প্রবেশ সংক্রান্ত বিধিবদল করতে চলেছে। যদিও ইতিমধ্যেই বিশেষ নীতি প্রয়োগ করে গত মাসে ইয়েস ব্যাঙ্কের মালিকানায় জাপানের ব্যাঙ্ককে ২০ শতাংশ অংশিদারিত্ব নিতে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ব্যাঙ্ক আইডিবিআইকে অনেক বছর ধরেই বিক্রি করার পরিকল্পনা হয়েই রয়েছে। জানা যাচ্ছে, আইডিবিাই ব্যাঙ্ক ক্রয়ে সবথেকে এগিয়ে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমীরশাহির ব্যাঙ্ক। প্রধানত পশ্চিম এশিয়া ও এশিয়ার অন্য অংশ থেকেই বহু ব্যাঙ্ক ভারতে প্রবেশের আগ্রহ দেখাচ্ছে। পিছিয়ে নেই ইওরোপও। এই প্রবল আগ্রহের জেরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বদল আনবে কঠোর নিয়মে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ২৬ শতাংশ মালিকানার দরজা খোলা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ ঠিক যেভাবে বিমার দরজা খুলেছিল। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার আমূল সংস্কার চাইছে কেন্দ্র এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। অর্থমন্ত্রক আগেই স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, সরকারের লক্ষ্য চারটি সরকারি ব্যাঙ্ক রাখার। বর্তমানে যে ১২টি ব্যাঙ্ক রয়েছে, সেগুলি আবার সংযুক্তিকরণ অথবা কয়েকটি বেসরকারিকরণের মাধ্যমে ওই পথে অগ্রসর হবে কেন্দ্র। পাশাপাশি ব্যাঙ্কিং সেক্টরে বিদেশি লগ্নি এবং বিদেশি পেশাদারিত্ব তথা আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টরকে প্রবেশ করাতে চায় কেন্দ্র। যা গ্রাহক ও ব্যাঙ্কিং সেক্টর, উভয়ের পক্ষেই লাভজনক হবে বলে মনে করছে সরকার। কিন্তু প্রশ্ন হল, দেশবাসীকে স্বদেশি মন্ত্রে দীক্ষিত করে বিদেশি ব্যাঙ্কের মালিকানা বৃদ্ধির কারণ কী?