


সংবাদদাতা, ঘাটাল: বিগত বছরগুলির তুলনায় এবার ঘাটাল মহকুমায় মশার উপদ্রব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধ্যা হলেই ঝাঁকে ঝাঁকে মশা ঘরে ঢুকছে। মশার উপদ্রব নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরও উদ্বিগ্ন। ঘাটাল মহকুমা সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রসূনকল্যাণ জানা বলেন, এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গু বা অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা না দিলেও এবছর মশার উপদ্রব যেভাবে বেড়েছে তার ফলে যেকোনও মুহূর্তে তা একটি বড় ধরনের মহামারীর কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এবছর গরমের হাওয়া বইতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম ও শহর প্রত্যেকটি এলাকায় মশার ব্যাপক উপদ্রব দেখা দিয়েছে। দিনের আলো একটু কমতে শুরু করলেই বাড়ির আশেপাশে মশার কালো ঝাঁক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঘাটাল শহরের এক শিক্ষক অভিজিৎ সামন্ত বলেন, আগে মশা তাড়ানো তেল, কয়েল জ্বালালে ঘরের মধ্যে মশা দেখা যেত না। এবার তাতে কোনও কাজ হচ্ছে না। স্বাস্থ্য দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী মশা যদি ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস, হলুদ জ্বর, ফাইলেরিয়াসিস, জাপানি এনসেফেলাইটিস এবং ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের জীবাণু বহন করতে শুরু করে কয়েক দিনের মধ্যে গোটা মহকুমায় মহামারি দেখা দিতে পারে। মশাবাহিত রোগ শুরু হওয়ার আগে মশাদমনের কাজ প্রশাসন করে থাকে। সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, আমরা মহকুমার পৌরসভা, ব্লক ও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি নিয়ে জানিয়েছি।
গত বছর ঘাটাল ব্লকের সুলতানপুর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় এক জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। এবার ঘাটাল ব্লকের আজবনগর এলাকার একজনের ডেঙ্গু হয়েছে। তবে তিনি কলকাতা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এনআরএসে চিকিৎসা করিয়েছেন। তাই এবার মশার উপদ্রবে চিন্তিত সাধারণ প্রশাসনও। ঘাটাল পৌরসভার চেয়ারম্যানেরা এবারের মাত্রাত্রিরিক্ত মশার উপদ্রব নিয়ে উদ্বিগ্ন। ঘাটাল পৌরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা, খড়ার পৌরসভার চেয়ারম্যান সন্ন্যাসীচরণ দোলই সহ অন্যান্য পুরসভার চেয়ারম্যানেরা জানান, তাঁদের পৌরসভায় মশা মারতে স্প্রে ছড়ানোর কাজ ধারাবাহিকভাবে চলছে। পুরকর্মীরা বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা করে বিভিন্ন এলাকায় জমা জল ফেলে দেওয়া, ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কী করে এত মশা হচ্ছে তা তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না। মশার উপদ্রবে উদ্বিগ্ন ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পঞ্চানন মণ্ডল বলেন, প্রত্যেকটি গ্রামপঞ্চায়েত এনিয়ে সতর্ক করে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।