


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলা-বাঙালির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না বিজেপি। ১৯৮০ সালে পার্টির জন্মলগ্ন থেকে রাজ্যবাসীর মনে এমনই ধারণা তৈরি করেছে বাম-ডান সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এবার সেই কথা মাথায় রেখে বাংলায় বিধানসভা ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরের মূল নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) নিজস্ব পৃথক সত্তা তৈরি করতে সক্রিয়। সচেতনভাবেই বিজেপির সঙ্গে এক গোত্রে বসতে চাইছে না সংঘ। শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ররিবার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত এক সভায় তা স্পষ্ট করে দিলেন সরসংঘ চালক মোহন ভাগবত। তিনি এদিন বলেন, ‘বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সংঘকে দেখা ভুল। আরএসএসের সঙ্গে কারও তুলনা টানলে ভুল হবে। হিন্দুদের উন্নতিসাধনে সক্রিয় সংঘ।’ উল্লেখ্য, সংঘের গর্ভে জন্ম তার রাজনৈতিক উইং বিজেপির। নাগপুর থেকেই চূড়ান্ত হয় কেন্দ্রীয় শাসক দলের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ। সেক্ষেত্রে ভাগবতের মুখে আরএসএস-বিজেপিকে পৃথক করে দেখার এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে কেশবভবনের এক অধিকারী বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের পার্টি চালানোর ধরন ভাগবতের না-পছন্দ। সেই মতানৈক্যেই সর্বভারতীয় বিজেপির সভাপতি চয়ন প্রক্রিয়া একবছরের বেশিকাল ধরে ঝুলে রয়েছে।’ সম্প্রতি বিহারের নেতা নীতিন নবীনকে পার্টির জাতীয় কার্যকরী সভাপতি ঘোষণা করা হয়েছে। গত লোকসভা ভোটের আগে সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা সাফ জানিয়েছিলেন, বিজেপি এখন সাবালক। পার্টির আর আরএসএসের প্রয়োজন নেই। তারপরই দেশজুড়ে সংঘের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। তার আঁচ পড়ে লোকসভা ভোটেও। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় তৃতীয় মোদি সরকার।
পরবর্তীকালে বিভিন্ন ইস্যুতে অম্ল-মধুর রসায়নে চলছে সংঘ-বিজেপি। এবার বাংলার ভোটের প্রাক্কালে আরএসএস নিজেকে আরও বেশি করে বাঙালির কাছে আসতে চাইছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত। তাই বিজেপির সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের আলাদা করে তুলে ধরতে ভাগবত এহেন কৌশল নিয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইস্যুতে মুখ খুলে ভারত সরকারকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার দাবি তুলেছেন সংঘ প্রধান। ওপার বাংলার সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি এদিন বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সরকার কিছু করুক। প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতির প্রভাব এখানে পড়ছে। বাংলাদেশের বিষয়ে আপনারা যা চাইছেন, আমরাও চাইছি তা।’ ১৯৭১ সালের মতো ওদেশের হিন্দুদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের উপর ছেড়েছেন ভাগবত। বক্তব্য রাখছেন ভাগবত। -নিজস্ব চিত্র