


বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: দমদমে জেসপ লাগোয়া মাঠে সভা করতে এসে বন্ধ কারখানা নিয়ে মুখ খোলেননি প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যের জেসপ অধিগ্রহণ বিল কয়েকবছর ধরে আটকে রয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছে। সেই জেসপ বাঁচাতে নতুন সংগঠন তৈরি করে ভোটের আগে দমদমে মাঠে নেমেছে বিজেপি। জেসপ কারখানায় লাগাতার চুরি নিয়ে তাঁরা সরব হয়েছেন। এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দমদমে কি ফের তুরুপের তাস হতে চলেছে জেসপ, সেই প্রশ্নে চায়ের কাপে তুফান উঠতে শুরু করেছে।
দমদমের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ছিল জেসপ কারখানা। নয়ের দশক থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের এই কারখানা ধীরে ধীরে রুগ্ণ হচ্ছিল। ২০১০ সাল থেকে জেসপের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৩ সালে জেসপ কারখানায় সাসপেনশন ওফ ওয়ার্ক ঘোষণা করা হয়। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে ফের কারখানা খুলেছিল। কিন্তু মাসছয়েক পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গঙ্গা দিয়ে বহু জল গড়ালেও জেসপ আর খোলেনি। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় জেসপ অধিগ্রহণ বিল পাশ হয়েছিল। এরপর ওই বিল রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তা আজও হয়নি। ওই বিল পাশের পাশাপাশি জেসপ কারখানার কর্মীদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা মানবিক ভাতা ও চিকিৎসার সুবিধার জন্য ইএসআইয়ের সুবিধেও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু জেসপ কারখানা কবে খুলবে, উৎপাদন শুরু হবে কবে, তা নিয়ে দমদমবাসীর কৌতূহলের শেষ নেই।
গত ২২ আগস্ট দমদমের আম্বেদকর ক্রীড়াঙ্গনের রাজনৈতিক সভায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বন্ধ জেসপ কারখানা নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। দমদমকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব তৈরির স্বপ্ন ফেরি করে বলেছিলেন, ‘আমি চাই এখানে ইলেকট্রিক গাড়ির সঙ্গে যুক্ত ব্যাপক পরিকাঠামো তৈরি হোক। এখানে প্রচুর বিনিয়োগ আসুক। যুবকরা কাজ পাক।’ সম্প্রতি বিজেপির উদ্যোগে দমদম জেসপ বাঁচাও মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দমদম পুরসভা লাগোয়া জেসপ কারখানার ৩ নম্বর স্ট্রাকচারাল গেটে কর্মসূচি করা হয়। জেসপ পুনরুজ্জীবনের দাবিতে গণস্বাক্ষরের পাশাপাশি মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। মঞ্চ থেকে স্লোগান দিয়ে বলা হয়, ‘১৬ হাজার চাকরি চাও, জেসপের পথে পা বাড়াও।’
তৃণমূল অনুমোদিত জেসপ কোম্পানি লিমিটেড ওয়ার্কাস অ্যান্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সম্পাদক শ্রীকুমার বন্দ্যেপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যের জেসপ অধিগ্রহণ বিল পাশের দাবিতে আমরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে চিঠি দিয়েছি। এরপর গত একদশকে বহু আন্দোলন করেছি দমদম এবং দিল্লিতে। কিন্তু বিজেপি সরকার রাজনৈতিক কারণে ওই বিলে ছাড়পত্র দিচ্ছে না। তারপরও মুখ্যমন্ত্রী বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের মাসিক মানবিক ভাতা ও চিকিৎসার সুবিধে দিচ্ছেন। দমদম তথা রাজ্যবাসীকে বিজেপি বলুক, এই বিলে কেন্দ্র অনুমোদন দিচ্ছে না কেন।’
জেসপ নিয়ে তৈরি নতুন মঞ্চের সভাপতি তথা বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি অরিজিৎ বক্সি বলেন, ‘দমদমের প্রতিটি মানুষ জানে বন্ধ জেসপ কারখানার যন্ত্রাংশ লুট করে কারা কোটিপতি হয়েছে। এখনও জেসপের লোহা চুরি চলছে। জেসপের বহুমূল্য জমি দখল করে বসতি বসানো হচ্ছে। কোথাও গজিয়ে উঠছে বহুতল বিল্ডিং। তৃণমূল জেসপ লুট করেছে। ভোট এলেই ওরা জেসপ নিয়ে নতুন নাটক শুরু করে। এবার মানুষের সামনে ওদের মুখোশ খুলে দেব।’