


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোথাও কল খুললে সুতোর মতো জল পড়ে। আবার কোথাও দিনের পর দিন জলই মেলে না। চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন বাসিন্দারা। বালি পুরসভার নিজস্ব ইনটেক জেটির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই জল না পৌঁছোনোয় ব্যাপক সমস্যায় রয়েছেন এলাকাবাসী। এই জলকষ্ট চিরতরে মিটতে চলেছে এবার। ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে হাওড়ার সালকিয়ায় জলপ্রকল্প নির্মাণ করছে কেএমডিএ। প্রায় ১২৫ বর্গকিমি এলাকা জুড়ে পানীয় জল সরবরাহ শুরু হলে বালির পাশাপাশি উপকৃত হবে উত্তর হাওড়ার বড় অংশও। জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে এই কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বালি ও বেলুড়ে জল সরবরাহ করা হয় পুরনো ইনটেক পয়েন্ট থেকে। বছরের পর বছর ড্রেজিং না হওয়ার কারণে যেভাবে গঙ্গা নাব্যতা হারিয়েছে, তাতে এই ইনটেক পয়েন্টের অবস্থা শোচনীয়। অভিযোগ, প্রচুর পলি জমে থাকার কারণে প্রায়দিনই মোটর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে জল তোলার কাজ। এদিকে জনবসতি হু হু করে বাড়ছে। ফলে পর্যাপ্ত জল সরবরাহ করতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে পুরসভাকে। লিলুয়া ও ভট্টনগর এলাকায় জল সরবরাহ করা হয় হাওড়ার পদ্মপুকুর প্লান্ট থেকে। ওই এলাকাতেও জল নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, সালকিয়ার হনুমান জুট মিলের কাছে তৈরি হওয়া দৈনিক ১৫ মিলিয়ন গ্যালন জল তুলতে সক্ষম নতুন ইনটেক জেটি বালি পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডেরই জলের চাহিদা মেটাবে। পাশাপাশি উত্তর হাওড়ার ১৪টি ওয়ার্ডে জল সরবরাহ হবে এখান থেকে। ইনটেক জেটির কাজ ইতিমধ্যেই প্রায় ৬০ শতাংশ করে ফেলেছে কেএমডিএ। উত্তর হাওড়া ও বালিতে এখন পাইপলাইন বসানোর কাজও চলছে জোরকদমে।
জল সরবরাহে যাতে কোনও ঘাটতি না হয়, সেজন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ছ’টি এলিভেটেড রিজার্ভার তৈরির কাজও প্রায় ৭০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। হাওড়া পুরসভার ৫, ২৬, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে তিনটি রিজার্ভার। বাকি তিনটি তৈরি হচ্ছে বালি পুরসভার ১০, ১৬ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে। হাওড়া পুরসভার কমিশনার বন্দনা পোখরিয়াল বলেন, ‘এই জল প্রকল্প চালু হলে পদ্মপুকুর প্লান্টের উপর নির্ভরতা কমবে। ফলে গোটা হাওড়ায় জলের গতি বাড়বে। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ইনটেক জেটির কাজ শেষ হয়ে যাবে।’ সালকিয়া জলপ্রকল্প থেকে পুরোদমে জল সরবরাহ শুরু হলে নতুন ইনটেক জেটির কাজে হাত দেবে বালি পুরসভা।
বালি পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘পুরনো ইনটেক জেটির মোটর মেরামতের খরচ দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। সেখানে নতুন করে আর সংস্কার করা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই বালি রবীন্দ্রভবনের পিছনের অংশে একটি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানেই আগামী দিনে ইনটেক জেটি তৈরির কাজ শুরু হবে।’ নিজস্ব চিত্র