


নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: অবশেষে প্রায় তেরোবছর পর সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের জেলমুক্তি হতে চলেছে। বুধবার সব মামলায় জামিন পেয়ে গেলেন সুদীপ্ত। এদিন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে। রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দুটি মামলায় জামিন দেওয়া হয়েছে তাঁকে। ফলে জেল থেকে তাঁর বেরোনোর আর কোনো আইনি বাধা রইল না। তবে জামিনের জন্য কিছু শর্তও থাকছে। আজ বৃহস্পতিবার জেলমুক্ত হতে পারেন সুদীপ্ত।
চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেনের একাধিক শারীরিক জটিলতা রয়েছে। ৬৪ বছর বয়সি এই ব্যক্তির সম্প্রতি ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল। যে মামলায় তিনি অভিযুক্ত তাতে সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের দ্বিগুণ সময় ইতিমধ্যেই তিনি জেলে কাটিয়ে ফেলেছেন! শুনানিতে তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, এই দীর্ঘায়িত কারাবাস ‘শাস্তিমূলক’। এদিন ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁর জামিন হয়েছে।
জামিনের শর্ত হিসাবে সুদীপ্তকে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালতের আগাম লিখিত অনুমতি ছাড়া তিনি রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না। বারাসত থানার ভারপ্রাপ্ত ওসির কাছে তাঁর স্থায়ী বসবাসের ঠিকানা জানাতে হবে। বিচার বিভাগীয় আদালত ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত ওসিকে আগাম না জানিয়ে তিনি বসবাসের স্থান বদলাতে পারবেন না। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কিম অথবা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং সংস্থার প্রচার, পরিচালনা কিংবা সেগুলির এজেন্ট বা পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করা যাবে না। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনসাধারণের কাছ থেকে কোনো ধরনের আমানত সংগ্রহ বা গ্রহণ করতে পারবেন না তিনি। মামলার তথ্যের সঙ্গে যোগ আছে, এমন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। কাউকে প্রভাবিত করতে বা ভয় দেখাতে পারবেন না। এসব শর্তের যেকোনো একটি অমান্য হলে তাঁর জামিন অবিলম্বে বাতিল করা হবে।
সুদীপ্তের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের ৭৬টি মামলা ছিল। কেন্দ্রীয় এজেন্সির সব মামলায় আগেই জামিন হয় সুদীপ্তর। বারাসাত থানার দুটি মামলায় জেলবন্দি ছিলেন সারদাকর্তা। এই দুই মামলাতেই এদিন জামিন মঞ্জুর হয়েছে। সারদাকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল মোট ৩৮৯টি। ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল সুদীপ্ত গ্রেপ্তার হন বিধাননগর থানার মামলায়। সিবিআই ৭৬টি মামলা হাতে নেয়। তারা সব মিলিয়ে চারটে মামলা দায়ের করে। বাকিগুলিতে রাজ্য পুলিশ চার্জশিট দেয়। সেই চার মামলায় জামিন পেয়ে যান সুদীপ্ত। বেল বন্ড জমা দেন তিনি। তবে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা ৩০৮টি মামলার মধ্যে দুটি আটকে ছিল। বারাসত থানার দুটি মামলাও ঝুলছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
২০১৩ সালে সারদাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরে দেবযানীকে নিয়ে কাশ্মীরের সোনমার্গে গাঢাকা দিয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। ওইবছরই কাশ্মীর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁদের। তখন থেকে দুজনই জেলে রয়েছেন। ২০২৩ সালে অবশ্য কয়েকঘণ্টার জন্য প্যারোলে ছাড়া পান দেবযানী। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন থানায় প্রতারিত ব্যক্তিরা অভিযোগ জানান সারদা চিটফান্ডের বিরুদ্ধে। পরে তদন্তভার হাতে নিয়ে সিবিআইও মামলা রুজু করে। ইডি ও সেবিও সুদীপ্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। অবশেষে সব মামলা থেকেই জামিন পেলেন সুদীপ্ত।