


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। কিন্তু সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশকে তাদের দিকে টেনে আনতে ঠিক কী কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা নিয়ে রীতিমতো দিশাহীন বঙ্গ বিজেপি। মুসলমান তথা সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে টানতে না পেরে শেষমেশ কি ওই ভোটারদেরই একপ্রকার ‘ব্রাত্য’ করে দিতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি? আপাতত এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেছেন, ‘সংখ্যালঘুদের ভোট ছাড়াই আমরা বাংলায় ক্ষমতায় আসব। বাংলায় মুসলমানদের খুব সামান্য অংশই বিজেপিকে ভোট দেন। কিন্তু বাংলার মানুষকে হিন্দু এবং মুসলমান—এই দু’ভাগে বিভক্ত করার কথা বিজেপি ভাবছেই না।’
এই মন্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, এবারের বিধানসভা ভোটেও বিজেপি যে সংখ্যালঘু ভোট পাবে না, তা কি একপ্রকার বুঝে গিয়েছেন নব নির্বাচিত রাজ্য সভাপতি? আর সেই কারণেই কি বাংলায় হিন্দুত্ব অস্ত্রেই শান দিচ্ছে পদ্মশিবির? এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে শমীকবাবু জানান, এবারের বিধানসভা নির্বাচন বাঙালি হিন্দুদের নিজের অস্তিত্ব রক্ষার শেষ লড়াই হতে চলেছে। অবশ্য রাজ্য বিজেপির অন্দরের খবর, বাংলায় মুসলিম তথা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথগুলিকে ‘লক্ষ্যমাত্রা’র বাইরেই রাখতে চলেছে পদ্ম শিবির। শমীকবাবু অবশ্য এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার আদি এবং নব্য—সব পক্ষের নেতা-কর্মীকেই সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাবে। সেই তালিকায় থাকা নামের মধ্যে অন্যতম রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ঘটনাচক্রে আজ, বৃহস্পতিবার যখন শমীকবাবু দিল্লিতে এসেছেন, তখন রাজধানীতে উপস্থিত দিলীপবাবুও। শমীকবাবু সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে এদিন সংসদ ভবনে যান। দিলীপ ঘোষও কিছু ‘অফিসিয়াল’ কারণে বৃহস্পতিবার সংসদে গিয়েছিলেন। তবে দু’জনের দেখা বা রাত পর্যন্ত কোনও কথা হয়নি বলে খবর।
নিজের সফরের ব্যাপারে দিলীপবাবু বলেন, বৃহস্পতিবার দলের কোনও কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। ওই পর্ব বুধবারই মিটে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার মূলত রাজনীতির বাইরে আমার পরিচিত মানুষ, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির সম্প্রসারিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শমীকবাবুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন দলের অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত দলীয় নেতা সুনীল বনসল। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে শমীকবাবুর নেতৃত্বে রাজ্য বিজেপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দু’জনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দিনকয়েক আগে রাজ্য বিজেপির সল্টলেক কার্যালয়ে দিলীপ-শমীক সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেখানে তাঁদের মধ্যে কী কথা হয়েছিল, সেই সম্পর্কেও জানতে চান বনসল। রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, একজন কেন্দ্রীয় নেতা দিলীপবাবুর কথা যেভাবে আলাদা করে জানতে চেয়েছেন, সেই বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যা থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, দিলীপবাবুর গতিবিধি বা তাঁর চমকের জল্পনা নিয়ে দিল্লির শীর্ষ বিজেপি নেতারাও বেশ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।